মাহে রমজান মুসলমানদের জন্য আত্মশুদ্ধি ও তাকওয়া অর্জনের গুরুত্বপূর্ণ সময়। ইসলামে রোজার মূল উদ্দেশ্য কেবল উপবাস থাকা নয়, বরং আত্মসংযমের মাধ্যমে আল্লাহভীতি ও তাকওয়া অর্জন করা। তাই বছরে এক মাস রোজা পালন মুসলমানদের জন্য ফরজ করা হয়েছে।
পবিত্র কোরআনে আল্লাহতায়ালা বলেন, হে মোমিনরা! তোমাদের জন্য রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেমন ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর, যাতে তোমরা মুত্তাকি হতে পার। (সুরা বাকারা : ১৮৩)
তাকওয়া শব্দটি আরবি ভাষা থেকে এসেছে। এর আভিধানিক অর্থ হলো ভয় বা শঙ্কাজনক বিষয় থেকে নিজেকে রক্ষা করা এবং ক্ষতিকর বিষয় থেকে দূরে থাকা। কোরআনে তাকওয়া বিভিন্ন অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে, যার মধ্যে আল্লাহকে ভয় করা, তাঁর আনুগত্য করা, গুনাহ থেকে বেঁচে থাকা এবং অন্তরের বিশুদ্ধতা অর্জন করা অন্যতম।
ইসলামি চিন্তাবিদ ও আলেমরা তাকওয়ার বিভিন্ন সংজ্ঞা দিয়েছেন। শায়খ আবদুল আজিজ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে বায (রহ.) বলেন, আল্লাহর ভয়, তাঁর ভালোবাসা এবং জান্নাতের আশা নিয়ে কোরআন ও সুন্নাহর নির্দেশ অনুযায়ী সব ধরনের অন্যায় ও পাপ থেকে বিরত থেকে ইবাদত করাই তাকওয়া।
অন্যদিকে শায়খ আবদুল্লাহ আত তানুসি (রহ.) বলেন, আল্লাহর নির্দেশ মেনে চলা এবং নিষিদ্ধ বিষয়গুলো থেকে বিরত থাকাই তাকওয়ার মূল অর্থ। একইভাবে ওমর ইবনে আবদুল আজিজ (রহ.) উল্লেখ করেন, আল্লাহ যা হারাম করেছেন তা বর্জন করা এবং যা ফরজ করেছেন তা পালন করাই তাকওয়া।
ইসলামে তাকওয়ার অবস্থান মানুষের অন্তরে। কোরআনে বলা হয়েছে, তোমরা আল্লাহকে ভয় করো। নিশ্চয়ই আল্লাহ অন্তরের বিষয় সম্পর্কে ভালোভাবে অবগত। (সুরা মায়িদা : ৭)
হাদিসেও তাকওয়ার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে। রাসুল (সা.) বলেন, মুসলমান মুসলমানের ভাই। সে তার ওপর জুলুম করে না এবং তাকে অবহেলা করে না। এরপর তিনি নিজের বুকের দিকে ইশারা করে বলেন, তাকওয়া এখানে। (মুসলিম : ২৫৬৪)
ইসলামের দৃষ্টিতে সব ইবাদতের মূল লক্ষ্য মানুষের অন্তরে তাকওয়া সৃষ্টি করা। আল্লাহতায়ালা বলেন, আল্লাহর কাছে কোরবানির পশুর রক্ত বা মাংস পৌঁছে না; বরং তাঁর কাছে পৌঁছে তোমাদের তাকওয়া। (সুরা হজ : ৩৭)
কোরআনে মুত্তাকিদের কিছু বৈশিষ্ট্যের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। তাদের অন্যতম হলো আল্লাহ ও পরকালের প্রতি বিশ্বাস, নিয়মিত নামাজ কায়েম করা, জাকাত প্রদান করা, দুঃসময়ে ধৈর্য ধারণ করা এবং মানুষের প্রতি দয়া ও সহমর্মিতা প্রদর্শন করা।
তাকওয়া অর্জনের জন্য কোরআন ও সুন্নাহে বিভিন্ন উপায় বর্ণনা করা হয়েছে। এর মধ্যে আল্লাহ সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন, কোরআন তিলাওয়াত ও তা নিয়ে চিন্তা করা, নিষ্ঠার সঙ্গে ইবাদত করা এবং আল্লাহর সৃষ্টিজগৎ নিয়ে ভাবনাচিন্তা করা গুরুত্বপূর্ণ।
রমজান মাসে রোজা পালন, বেশি বেশি ইবাদত, দান-সদকা এবং আত্মসংযমের মাধ্যমে একজন মুসলমান তার অন্তরে তাকওয়া সৃষ্টি করতে পারে। এ কারণেই ইসলামে রমজানকে আত্মশুদ্ধি ও তাকওয়া অর্জনের মাস হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
সিএ/এমআর


