ইসলামে বিতর নামাজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ইবাদত। ‘বিতর’ শব্দের অর্থ বিজোড়। এই নামাজ সাধারণত তিন রাকাত হওয়ায় একে বিতর বলা হয়। ইসলামি শরিয়ত অনুযায়ী এ নামাজ আদায় করা ওয়াজিব এবং এটি এশার নামাজের পর থেকে সুবহে সাদিক পর্যন্ত যেকোনো সময়ে পড়া যায়।
সাধারণ নামাজের মতোই বিতর নামাজ আদায় করা হয়, তবে কিছু বিষয়ে সামান্য পার্থক্য রয়েছে। মুসলমানদের দৈনন্দিন ইবাদতের মধ্যে এ নামাজ বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।
হাদিসে বর্ণিত আছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) কখনোই বিতর নামাজ পরিত্যাগ করতেন না এবং সাহাবিদেরও তা আদায়ের জন্য উৎসাহ দিতেন। আবু হুরাইরা (রা.) বলেন, আমার প্রাণপ্রিয় বন্ধু আমাকে তিনটি বিষয়ের অসিয়ত করেছেন, যা মৃত্যু পর্যন্ত আমি ছাড়ব না। তা হলো- এক. প্রতি মাসে তিনটি রোজা রাখা, দুই. দুই রাকাত চাশতের নামাজ পড়া এবং তিন ঘুমানোর আগে বিতর নামাজ পড়া। (বোখারি : ১১৭৮)
বিতর নামাজ আদায়ের সর্বোত্তম সময় হলো রাতের শেষ প্রহর। রাসুলুল্লাহ (সা.) সাধারণত তাহাজ্জুদের নামাজের পর বিতর আদায় করতেন এবং অনেক সময় পরিবারের সদস্যদেরও জাগিয়ে দিতেন। তবে যাদের তাহাজ্জুদ পড়ার অভ্যাস নেই বা রাতের শেষ ভাগে জাগার সম্ভাবনা কম, তারা এশার নামাজের পরই বিতর আদায় করে নিতে পারেন।
হানাফি মাজহাব অনুযায়ী বিতর নামাজ তিন রাকাত। হাদিসে আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে, নবীজি রমজান মাসে এবং অন্যান্য সময় রাতের নামাজে এগার রাকাতের বেশি আদায় করতেন না। তিনি চার রাকাত নামাজ পড়তেন, যার সৌন্দর্য ও দীর্ঘতা ছিল অত্যন্ত প্রশংসনীয়। এরপর আরও চার রাকাত নামাজ পড়তেন এবং শেষে তিন রাকাত বিতর আদায় করতেন। (বোখারি : ১১৪৭)
বিতর নামাজের তিন রাকাতে তিনটি সুরা পাঠ করার কথাও হাদিসে উল্লেখ রয়েছে। উবাই ইবনে কাব (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) তিন রাকাত বিতর নামাজে প্রথম রাকাতে সুরা আলা, দ্বিতীয় রাকাতে সুরা কাফিরুন এবং তৃতীয় রাকাতে সুরা ইখলাস পাঠ করতেন। রুকুর আগে দোয়া কুনুত পড়তেন তিনি। (নাসায়ি : ১৬৯৯)
এই নামাজের ফজিলত সম্পর্কেও হাদিসে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। খাদিজা ইবনে হুজাফা (রা.) বলেন, একবার রাসুল (সা.) আমাদের কাছে এসে বলেন, আল্লাহতায়ালা তোমাদের জন্য একটি নামাজ বাড়িয়ে দিয়েছেন, যা রক্তবর্ণের উট থেকেও তা তোমাদের জন্য কল্যাণকর। এটি বিতর নামাজ। এশার নামাজ ও সুবহে সাদিক উভয়ের মধ্যবর্তী সময়টিকে আল্লাহতায়ালা তোমাদের জন্য সময় নির্ধারণ করে দিয়েছেন। (আবু দাউদ : ১৪১৮)
আরেক হাদিসে আলি (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে, আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেছেন, হে কোরআনের অনুসারীগণ, তোমরা বিতরের নামাজ আদায় করো। কেননা আল্লাহতায়ালা বিজোড় এবং তিনি বিজোড়কে ভালোবাসেন। (আবু দাউদ : ১৪১৬)
সিএ/এমআর


