রমজান মাসের শেষ দশকে ইতেকাফ পালনকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত আমল হিসেবে উল্লেখ করেছেন জনপ্রিয় ইসলামি আলোচক ও আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহ। তিনি মুসলমানদের এই আমলের প্রতি গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, “যে আমলটি রাসুল (সা.) জীবনে কখনো ছাড়েননি, সেই আমলটি অধিকাংশ মানুষ আমরা জীবনে একবারও করিনি। সেই অবহেলিত আমলটির নাম ইতিকাফ।”
তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কারণে মানুষের মনোযোগ ক্রমেই বিক্ষিপ্ত হয়ে পড়ছে। ফেসবুকের রিলসসহ বিভিন্ন অনলাইন কনটেন্ট মানুষের চিন্তা ও মনোযোগকে ক্রমাগত ব্যস্ত রাখছে, যার ফলে গভীরভাবে চিন্তা করা বা মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করার সুযোগ কমে যাচ্ছে।
এই পরিস্থিতিতে অনেক মানুষ মনোযোগ দিয়ে ইবাদত করার ক্ষেত্রেও সমস্যার মুখে পড়ছেন। তিনি বলেন, অনেকের জন্য দুই রাকাত নামাজও সম্পূর্ণ মনোযোগের সঙ্গে আদায় করা কঠিন হয়ে পড়ছে।
শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, “সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে আমাদের মনোযোগ অত্যন্ত বিক্ষিপ্ত। ফেসবুকের রিলসের মতোই আমাদের ভাবনাগুলো ক্রমাগত দৌড়াতে থাকে। মনোযোগ দিয়ে কোনো লেখা পড়ার, কিংবা কোনো বিষয় নিয়ে ভাবার অবকাশ আমাদের হয় না।”
তিনি মনে করেন, এই অস্থিরতা থেকে নিজেকে ফিরে পাওয়ার জন্য ইতেকাফ একটি কার্যকর মাধ্যম হতে পারে। ইতেকাফ মানুষের জন্য দুনিয়াবি ব্যস্ততা ও কোলাহল থেকে দূরে থেকে আল্লাহর ইবাদতে মনোনিবেশ করার সুযোগ তৈরি করে।
ইতেকাফের মাধ্যমে মানুষ নিজের গুনাহ, আখেরাত এবং মহান রবের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করার সুযোগ পায়। এটি আত্মিক উন্নতি এবং আধ্যাত্মিক চর্চার জন্য বিশেষ সময় বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, “ইতেকাফ এসব দুনিয়াবি ব্যস্ততা ও কোলাহল থেকে মুক্ত হয়ে একান্তভাবে মহান আল্লাহর দিকে মনোনিবেশ করার সুযোগ করে দেয়। এই ইবাদতটি মূলত নিজের গুনাহ, আখেরাত এবং মহান রবের সঙ্গে সম্পর্ক গভীরভাবে উপলব্ধির এমন সুযোগ, যা জীবনে খুব কমই আসে।”
তার মতে, সিয়াম যেমন মানুষের প্রবৃত্তিকে নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে, তেমনি ইতেকাফ মানুষের আত্মাকে আল্লাহর ঘরের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত করে আধ্যাত্মিক উন্নতির পথে এগিয়ে নেয়। এটি রাসুলের (সা.) গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত এবং রমজানের ইবাদতকে পূর্ণতা দেওয়ার একটি বিশেষ মাধ্যম।
সিএ/এমআর


