জাকাত ইসলামের একটি ফরজ বিধান এবং ইসলামের পঞ্চস্তম্ভের অন্যতম। নির্দিষ্ট পরিমাণ সম্পদের মালিক মুসলমানদের প্রতি বছর তাদের সম্পদের একটি অংশ দরিদ্র ও দুস্থদের মধ্যে বণ্টন করা বাধ্যতামূলক। এর মাধ্যমে যেমন সম্পদের পবিত্রতা অর্জিত হয়, তেমনি সমাজে অর্থনৈতিক ভারসাম্যও নিশ্চিত হয়।
শরিয়ত অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি যদি হিজরি এক বছর ধরে নেসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হন, তাহলে তাকে জাকাত আদায় করতে হয়। নেসাবের পরিমাণ হিসেবে ধরা হয় ৭ তোলা বা ৮৭.৪৫ গ্রাম স্বর্ণ, অথবা সাড়ে ৫২ তোলা বা ৬১২.৩৫ গ্রাম রৌপ্য, কিংবা এর সমপরিমাণ নগদ অর্থ। এই সীমা অতিক্রম করলে বর্ধনশীল সম্পদের ওপর ২.৫ শতাংশ বা ৪০ ভাগের ১ ভাগ জাকাত দিতে হয়।
জাকাত মূলত চার ধরনের সম্পদের ওপর ফরজ হয়। এর মধ্যে রয়েছে স্বর্ণ, রৌপ্য, ব্যবসার পণ্য এবং নগদ অর্থ। যে দিন এসব সম্পদ নেসাব পরিমাণে পৌঁছাবে, সেদিন থেকেই জাকাতের বর্ষ গণনা শুরু করতে হবে। বর্ষ পূর্ণ হওয়ার দিনে মালিকানাধীন মোট বর্ধনশীল সম্পদের ওপর জাকাত হিসাব করতে হয়।
জাকাত হিসাবের সময় বছরের মধ্যে অর্জিত অতিরিক্ত অর্থ বা সম্পদও হিসাবের অন্তর্ভুক্ত হবে। তবে স্থাবর সম্পত্তি যেমন বসতবাড়ি বা জমির ওপর জাকাত ফরজ নয়, যদি তা ব্যবসার উদ্দেশ্যে না হয়। একইভাবে ভাড়া দেওয়া বাড়ি বা গাড়ির মূল সম্পদের ওপর জাকাত নেই, তবে সেখান থেকে প্রাপ্ত ভাড়ার অর্থ নেসাব পরিমাণে জমলে তার ওপর জাকাত দিতে হবে।
জাকাত শুধু একটি আর্থিক অনুদান নয়, বরং এটি সম্পদের পবিত্রতা ও সামাজিক ন্যায়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। সঠিক নিয়মে জাকাত আদায় করলে ধর্মীয় দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি সমাজের দরিদ্র মানুষের জীবনমান উন্নয়নে ভূমিকা রাখা সম্ভব।
সিএ/এমআর


