ইসলামের প্রথম যুগে কবর জিয়ারত নিষিদ্ধ থাকলেও পরবর্তীতে তা অনুমোদন দেওয়া হয়। তবে কবরকে কেন্দ্র করে কিছু নির্দিষ্ট বিধিনিষেধ আরোপ করেছেন হজরত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। এসব বিধান মানা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য জরুরি।
হাদিস অনুযায়ী কবরের ওপর গৃহনির্মাণ, কবর পাকা করা বা কবরের ওপর বসা নিষিদ্ধ। হজরত জাবের (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) কবর পাকা করতে, কবরের ওপর বসতে ও সেখানে ঘর নির্মাণ করতে নিষেধ করেছেন। একইভাবে কবরের ওপর বসাকে অত্যন্ত অপছন্দনীয় বলা হয়েছে।
কবর পা দিয়ে মাড়ানোও ইসলামি শরিয়তে নিষিদ্ধ। অনেক সময় দাফনের সময় বা কবর জিয়ারতে অসতর্কভাবে পাশের কবর মাড়ানো হয়। এ বিষয়ে রাসুলুল্লাহ (সা.) কঠোর সতর্কতা দিয়েছেন এবং একজন মুসলমানের কবরের ওপর দিয়ে হাঁটার চেয়ে আগুনের ওপর হাঁটাকে তুলনামূলকভাবে সহজ বলেছেন।
কবরস্থানে পেশাব বা পায়খানা করা গুরুতর গুনাহ হিসেবে বিবেচিত। এতে মৃতদের অসম্মান হয় এবং পরিবেশ নষ্ট হয়। হাদিসে কবরস্থানে মল-মূত্র ত্যাগকে জনসমক্ষে অশালীন আচরণের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে।
কবরের পাশে গিয়ে অতিরিক্ত হা-হুতাশ ও বিলাপ করাও অনুচিত। স্বাভাবিকভাবে চোখে পানি আসা দোষের নয়, তবে উচ্চস্বরে কান্না বা বিলাপ নিষেধ করা হয়েছে। একই সঙ্গে কবরবাসীর কাছে কিছু চাওয়া, সিজদা করা, মানত করা বা পশু কোরবানি দেওয়াকে শিরকের অন্তর্ভুক্ত বলা হয়েছে।
ইসলামে কবর জিয়ারতের উদ্দেশ্য হলো মৃত্যু স্মরণ করা ও আখিরাতের প্রস্তুতি নেওয়া। তাই কবরস্থানে শালীনতা, সম্মান ও ধর্মীয় বিধান মেনে চলার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
সিএ/এমআর


