নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর শৈশবের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হলো দুধমাতা হালিমা (রা.)-এর স্নেহময় আশ্রয়ে বেড়ে ওঠা এবং পরবর্তীতে মায়ের কোলে ফিরে আসা। সিরাতের বর্ণনায় পাওয়া যায়, শিশু নবীজির জীবনে ঘটে যাওয়া কিছু অলৌকিক ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতেই তাঁকে পুনরায় মক্কায় ফিরিয়ে আনা হয়।
আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে, আল্লাহর রাসুল (সা.) শৈশবে শিশুদের সঙ্গে খেলছিলেন, তখন জিবরাইল (আ.) এসে তাঁর বক্ষ উন্মুক্ত করেন এবং জমজমের পানি দিয়ে তা ধৌত করেন। এই ঘটনাটি শিশুদের মধ্যে ভীতির সৃষ্টি করে এবং তারা দুধমায়ের কাছে ছুটে যায়। পরে হালিমা (রা.) নবীজিকে মায়ের কাছে ফিরিয়ে দেন।
সিরাতকারদের মধ্যে নবীজির হালিমার গৃহে অবস্থানের সময়কাল নিয়ে মতপার্থক্য রয়েছে। কেউ ছয় বছর, কেউবা কম সময়ের কথা উল্লেখ করেছেন। তবে এটুকু নিশ্চিত যে দুই বছরের দুগ্ধপানের পর তিনি আবার কিছু সময় বনু সা’আদ গোত্রে অবস্থান করেন।
এই সময়ের মধ্যেই বক্ষ উন্মুক্তকরণের ঘটনাটি ঘটে বলে বিভিন্ন ঐতিহাসিক সূত্রে উল্লেখ রয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে হালিমা (রা.) নবীজির নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত হয়ে তাঁকে মক্কায় ফিরিয়ে আনেন। কিছু বর্ণনায় এসেছে, বাইরের কিছু লোক নবীজির ভবিষ্যৎ গুরুত্ব অনুধাবন করে তাঁকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করতে পারে—এই আশঙ্কাও হালিমাকে উদ্বিগ্ন করেছিল।
পরবর্তীতে নবীজিকে মায়ের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার পর তাঁর দাদা আবদুল মুত্তালিব তাঁকে স্নেহভরে গ্রহণ করেন এবং কাবা শরিফে নিয়ে গিয়ে আল্লাহর দরবারে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। এই অধ্যায় নবীজির শৈশবের ইতিহাসে গভীর তাৎপর্য বহন করে।
সিএ/এমআর


