ইসলামে সৎকর্ম ও ন্যায়পরায়ণতার গুরুত্ব অপরিসীম। কুরআন-হাদিসে বারবার উল্লেখ করা হয়েছে যে, মানুষ তার প্রতিটি কাজের জন্য আল্লাহর কাছে জবাবদিহি করবে। যার কারণে সৎকর্মের বিনিময়ে অফুরন্ত পুরস্কার আর গাফিলতি বা অবহেলার কারণে কঠোর শাস্তির সতর্কতা বারবার স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে।
আলেমদের মতে, সৎকর্ম শুধু নামাজ, রোজা, দান-সাদকা কিংবা ইবাদতের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং মানুষের প্রতি সদাচরণ, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা, দায়িত্ব পালন, পরিবার-সমাজে শান্তি বজায় রাখাসহ সব নৈতিক আচরণই সৎকর্মের অন্তর্ভুক্ত। এসব কাজ আল্লাহর সন্তুষ্টির কারণ এবং পরকালে সফলতার পথ প্রশস্ত করে।
ধর্মীয় ব্যাখ্যায় বলা হয়, কোনো ভালো কাজই আল্লাহর কাছে অমূলক নয়। সামান্য হাসি, একটি সাহায্য, কিংবা কারও কষ্ট লাঘবের প্রচেষ্টাও সওয়াবের কাজ হিসেবে গৃহীত হয়। তবে এর বিপরীতে রয়েছে গাফিলতির ভয়াবহ পরিণতি। যে মানুষ আল্লাহর বিধান ও দায়িত্ব পালন থেকে দূরে সরে যায়, অপচয়, অহংকার, অবিচার বা অন্যের প্রতি ক্ষতি সাধনে লিপ্ত হয়—তাদের সম্পর্কে কুরআন গভীর সতর্কবার্তা দিয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, গাফিলতির সবচেয়ে বড় ক্ষতি হলো আল্লাহর স্মরণ থেকে দূরে সরে যাওয়া। এ অবস্থায় মানুষ ভুলকে ঠিক মনে করে বসে এবং সৎপথ থেকে বিচ্যুত হয়। ফলে দুনিয়ার জীবন যেমন অশান্তিতে ভরে ওঠে, তেমনি পরকালেও এর কঠোর হিসাব দিতে হবে।
ইসলাম মানুষকে সততা, দায়িত্ব, নৈতিকতা ও সৎকাজে উৎসাহিত করে; একই সঙ্গে গাফিলতি, অবহেলা ও কুকর্মের পরিণতি সম্পর্কে সচেতন হতে নির্দেশ দেয়। জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে আল্লাহভীতিকে প্রাধান্য দিয়ে সৎপথে থাকা—এটাই মুক্তির উপায় বলে ব্যাখ্যা করেন আলেমরা।
সিএ/এসএ


