শবেবরাত বা লাইলাতুন নিসফি মিন শাবান ইসলামের ইতিহাসে একটি তাৎপর্যপূর্ণ আত্মশুদ্ধিমূলক রাত। হাদিসের বিভিন্ন বর্ণনায় এ রাতের ফজিলত, আল্লাহর রহমত এবং সাধারণ ক্ষমার কথা এসেছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই রাত কেবল ধর্মীয় আমলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি; বরং মুসলিম সমাজের বিভিন্ন অঞ্চলে এটি ভিন্ন ভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক রূপ পেয়েছে।
ইতিহাসে দেখা যায়, নিসফে শাবানের ফজিলত সালাফদের যুগ থেকেই আলোচিত। তবে নির্দিষ্ট আনুষ্ঠানিকতা ও সম্মিলিত আয়োজন অনেক ক্ষেত্রে পরবর্তী সময়ের সামাজিক বাস্তবতার ফল। আলেমরা বরাবরই ইবাদতের ক্ষেত্রে সংযম ও শরিয়তের সীমা রক্ষার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।
বাংলা অঞ্চলে শবেবরাত মানেই অনেকের কাছে হালুয়া-রুটি, পায়েস বা মিষ্টান্ন বিতরণ। এর পেছনে রয়েছে দরিদ্র প্রতিবেশী ও আত্মীয়দের মাঝে খাবার ভাগ করে নেওয়ার সামাজিক ইতিহাস। যদিও এসব খাবারের কোনো নির্দিষ্ট ধর্মীয় নির্দেশনা নেই, তবুও এটি দান ও সৌহার্দ্যের প্রতীক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
অন্যদিকে ফিলিস্তিনে শবেবরাত পালিত হয় গভীর দোয়া ও কোরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে। সেখানে এই রাত কেবল ব্যক্তিগত গুনাহ মাফের জন্য নয়, বরং সমষ্টিগত মুক্তি ও ন্যায়বিচারের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন।
সৌদি আরবে শবেবরাতের পালন তুলনামূলক সংযত। সেখানে নির্দিষ্ট সামাজিক আনুষ্ঠানিকতা নেই; ব্যক্তিগত ইবাদতের মধ্যেই রাতটি সীমাবদ্ধ থাকে। মিশরে আবার সুফি ঐতিহ্যের প্রভাবে মসজিদকেন্দ্রিক দোয়া ও যিকিরের চর্চা দেখা যায়।
আফ্রিকার কিছু দেশে, বিশেষ করে সেনেগালে, শবেবরাত সুফি তরিকার প্রভাবে সম্মিলিত যিকির ও দোয়ার মাধ্যমে পালিত হয়। তবে উৎসবমুখর আয়োজনের পরিবর্তে সেখানে আত্মশুদ্ধির ওপরই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়।
আলেমদের মতে, সংস্কৃতি ও শরিয়তের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সামাজিক রীতিগুলো ততক্ষণ গ্রহণযোগ্য, যতক্ষণ পর্যন্ত সেগুলো ফরজ ইবাদতের বিকল্প হয়ে দাঁড়ায় না। সব মিলিয়ে শবেবরাত মুসলিম উম্মাহর জন্য ইতিহাস, সংস্কৃতি ও আত্মিক সাধনার এক অনন্য সংযোগস্থল।
সিএ/এমআর


