একজন মুসলমানের জানাজায় অংশ নেওয়া ও তাকে দাফন করা সমাজের মুসলমানদের জন্য একটি ইমানি দায়িত্ব। এতে রয়েছে বড় ধরনের সওয়াব এবং এটি এক মুমিনের ওপর আরেক মুমিনের অধিকার হিসেবেও বিবেচিত। ইসলামে জানাজার নামাজ ও দাফন কার্যক্রমকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হয়।
জানাজা ও দাফনকার্যে অংশগ্রহণের ফজিলত সম্পর্কে হযরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত এক হাদিসে রাসুল (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস রেখে এবং নেকির আশায় কোনো মুসলমানের জানাজার সঙ্গে যাবে, জানাজার নামাজ আদায় করবে এবং দাফন সম্পন্ন হওয়া পর্যন্ত সঙ্গে থাকবে, সে দুই কিরাত সওয়াব নিয়ে ফিরে আসবে। এক কিরাত উহুদ পাহাড়ের সমান। আর যে ব্যক্তি শুধু জানাজার নামাজ আদায় করে দাফনের আগে ফিরে আসবে, সে এক কিরাত সওয়াব লাভ করবে।’ এই বর্ণনায় জানাজার সঙ্গে থাকা ও দাফন পর্যন্ত অংশগ্রহণের মর্যাদা স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে।
আমাদের সমাজে সাধারণত জানাজার নামাজ ও দাফন প্রক্রিয়ায় পুরুষদেরই বেশি অংশ নিতে দেখা যায়। তবে নারীদের জানাজায় অংশগ্রহণের বিষয়ে ইসলামী শরিয়তে সরাসরি কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই বলে ইসলামবিষয়ক গবেষকরা মত দিয়েছেন। তাদের মতে, নারীরা চাইলে জানাজার নামাজে অংশ নিতে পারেন এবং এতে জানাজার বৈধতায় কোনো সমস্যা সৃষ্টি হয় না।
তবে ইসলামে নারীদের জানাজায় অংশগ্রহণকে সাধারণভাবে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। বিশেষ করে জানাজার পরিবেশে পর্দা রক্ষায় বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা থাকলে অথবা নিরাপত্তাজনিত কোনো ঝুঁকি দেখা দিলে সেখানে নারীদের উপস্থিত হওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়নি। যেহেতু জানাজার নামাজ নারীদের জন্য ফরজ নয়, তাই এতে অংশ নিতে গিয়ে কোনো ফরজ বিধান লঙ্ঘিত হওয়া শরিয়তসম্মত নয়।
ইসলামী বিধান অনুযায়ী জানাজার নামাজ আদায়, মৃতদেহ বহন এবং দাফনসংক্রান্ত সামগ্রিক দায়িত্ব মূলত পুরুষদের ওপরই ন্যস্ত। এ কারণে শরিয়তবিরোধী পরিস্থিতির সম্ভাবনা বিবেচনায় রেখে বহু আলেম নারীদের জানাজায় অংশগ্রহণ থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়ে থাকেন।
সিএ/এমআর


