নামাজ আদায়ের পর যদি কারও মনে হয় যে অজুর কোনো অঙ্গে পানি ঠিকমতো পৌঁছেনি বা কোনো অংশ শুকনো রয়ে গেছে, তাহলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা জরুরি। কারণ অজু শুদ্ধ না হলে নামাজও শুদ্ধ হয় না।
ইসলামি বিধান অনুযায়ী অজুর ফরজ অঙ্গ তিনটি—চেহারা, কনুইসহ হাত এবং টাখনুসহ পা। এই অঙ্গগুলোর কোনো অংশ যদি পরিপূর্ণভাবে ধোয়া না হয়, তাহলে অজু অসম্পূর্ণ থেকে যায়। বিশেষ করে কনুই, গোড়ালি ও আঙুলের ফাঁকে পানি পৌঁছানো নিশ্চিত করতে হয়।
নামাজ চলাকালীন যদি কেউ বুঝতে পারেন যে অজুর কোনো অংশ শুকনো রয়েছে, তাহলে সঙ্গে সঙ্গে নামাজ ছেড়ে সেই অংশ ধুয়ে নেওয়া জরুরি। আর নামাজ শেষ করার পর যদি বিষয়টি ধরা পড়ে, তাহলে ওই নামাজ পুনরায় আদায় করতে হবে।
হাদিসে এসেছে, এক সফরে সাহাবিদের অজু করতে দেখে রাসুল (সা.) সতর্ক করে বলেন, শুকনো গোড়ালির কারণে জাহান্নামের শাস্তির কথা। তিনি পূর্ণরূপে অজু করার ওপর বিশেষ জোর দেন। এ থেকেই বোঝা যায়, অজুর ব্যাপারে অবহেলা ইসলামে গ্রহণযোগ্য নয়।
তবে কোনো কোনো আলেমের মতে, যদি অজুর সময় অজান্তে কোনো ছোট অংশ শুকনো থাকে এবং পরে তা জানা যায়, তাহলে শুধু সেই অংশ ধুয়ে নিলেই অজু পূর্ণ হয়ে যাবে। এ ক্ষেত্রে নতুন করে অজু করার প্রয়োজন নেই। সাহাবিদের আমল থেকেও এ ধরনের দৃষ্টান্ত পাওয়া যায়।
ইবাদতের শুদ্ধতা নিশ্চিত করতে তাই অজু করার সময় ধীরস্থিরভাবে এবং পূর্ণ মনোযোগ দিয়ে প্রতিটি অঙ্গ ধোয়ার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন ইসলামি চিন্তাবিদরা।
সিএ/এমআর


