হজরত ঈসা (আ.) নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রায় ৫০০ বছর আগে পৃথিবীতে আগমন করেন। আল্লাহর কুদরতে তিনি অলৌকিকভাবে জন্মগ্রহণ করেছিলেন এবং সর্বশেষ নবীর আগমনের সুসংবাদ দিয়েছিলেন। তিনি মানুষকে তাওহীদের দিকে আহ্বান জানান এবং আল্লাহর দেওয়া আসমানী শিক্ষাগুলো সমাজে ছড়িয়ে দেন। মুসলমানদের কাছে তিনি একজন সম্মানিত নবী, যার জীবন ও আদর্শ আজও অনুপ্রেরণার উৎস।
পবিত্র কোরআনে নবী ঈসা (আ.)-কে আল্লাহর বান্দা ও সম্মানিত রাসুল হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তাকে কখনোই ঐশ্বরিক সত্তা বলা হয়নি। তিনি সতী ও কুমারী মারইয়াম (আলাইহাস সালাম)-এর গর্ভে জন্মগ্রহণ করেন এবং আল্লাহর অনুমতিতে অন্ধকে সুস্থ করা ও মৃতকে জীবিত করার মতো মু‘জিজা লাভ করেন। তার দাওয়াতের মূল ছিল আল্লাহর একত্বে বিশ্বাস স্থাপন এবং হালাল ও পবিত্র পথে জীবনযাপন।
নবী ঈসা (আ.) মানুষের দেহ, আত্মা ও ভোগ্যবস্তুর পবিত্রতার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। কোরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন, হে মানুষ, পৃথিবীতে যা কিছু হালাল ও পবিত্র রয়েছে তা থেকে আহার করো এবং শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করো না। (সুরা বাকারা, আয়াত : ১৬৮) এই শিক্ষা মুসলমানদের জন্য সংযম ও নৈতিকতার দিকনির্দেশনা দেয়।
ইসলামে হালাল জীবনধারা কেবল খাদ্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। সততা, নৈতিক উপার্জন, শালীনতা এবং ব্যক্তিগত চরিত্র—সবই হালালের অংশ। হালাল পণ্য ব্যবহার, নৈতিক ব্যবসা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টিকে অগ্রাধিকার দেওয়ার মাধ্যমে মুসলমানরা নবী ঈসা (আ.) ও নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর দেখানো মূল্যবোধ অনুসরণ করেন।
আধুনিক সময়ে বৈশ্বিক বাজারব্যবস্থা ও ভোগবাদী সংস্কৃতির মধ্যে হালাল ও পবিত্র জীবনধারা বজায় রাখা চ্যালেঞ্জের। তবুও আল্লাহর প্রেরিত নবীদের অবিচল আদর্শ মুসলমানদের দৃঢ়তা জোগায়। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, নিশ্চয়ই আল্লাহ পবিত্র, তিনি শুধু পবিত্র বস্তুই গ্রহণ করেন। আর আল্লাহ মুমিনদের সেই আদেশই দিয়েছেন, যা তিনি রাসুলদের দিয়েছেন। হে রাসুলগণ, তোমরা পবিত্র বস্তু থেকে আহার করো এবং সৎকাজ করো। (সুরা মুমিনুন, আয়াত : ৫১) হে মুমিনগণ, আমি তোমাদের যে হালাল রিজিক দিয়েছি, তা থেকে আহার করো। (সুরা বাকারা, আয়াত : ১৭২)
নবী ঈসা (আ.)-এর জীবন মুসলমানদের জন্য পবিত্রতা, সত্যনিষ্ঠা ও আল্লাহর প্রতি আনুগত্যের জীবন্ত দৃষ্টান্ত হয়ে আছে। তার শিক্ষা সময় ও স্থানের সীমা অতিক্রম করে মানবজীবনে নৈতিকতার আলো জ্বালিয়ে রাখে।
সিএ/এমআর


