মানুষের সঙ্গে সদাচরণ, হাসিমুখে কথা বলা এবং সহানুভূতি প্রকাশ মানবিক গুণের অন্যতম প্রকাশ। একটি সুস্থ সমাজ গঠনের জন্য পারস্পরিক সম্মান, সৌজন্য ও দয়ার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোরআনের অন্যতম লক্ষ্য হলো সমাজে নম্রতা, সহমর্মিতা ও ভালোবাসার পরিবেশ সৃষ্টি করা, যার মাধ্যমে গড়ে ওঠে সামাজিক ঐক্য, মানসিক প্রশান্তি এবং আধ্যাত্মিক উন্নয়ন।
সদাচরণের মূল ভিত্তি হলো আল্লাহর প্রতি ঈমান ও তাকওয়া। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘হে মানবজাতি! তোমরা তোমাদের প্রতিপালককে ভয় করো, যিনি তোমাদেরকে একটি মাত্র সত্তা থেকে সৃষ্টি করেছেন।’ কোরআনের দৃষ্টিতে সব মানুষ সমান মর্যাদার অধিকারী। জাতি, বর্ণ, ধনী-গরিব কিংবা সামাজিক অবস্থানের কোনো পার্থক্য ইসলামে নেই। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘হে মানবজাতি! আমি তোমাদেরকে এক পুরুষ ও এক নারী থেকে সৃষ্টি করেছি এবং তোমাদেরকে বিভিন্ন জাতি ও গোত্রে বিভক্ত করেছি, যাতে তোমরা পরস্পরকে চিনতে পারো। নিশ্চয়ই আল্লাহর কাছে তোমাদের মধ্যে সর্বাধিক মর্যাদাবান সেই ব্যক্তি, যে সর্বাধিক তাকওয়াবান।’
ইসলামে দরিদ্র, অসহায়, প্রতিবেশী ও অচেনা মানুষের প্রতি সহানুভূতিকে মানবিক সমাজের ভিত্তি হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। হাসিমুখে কথা বলাকেও সদকা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘তোমরা নামাজ কায়েম করো, যাকাত প্রদান করো; আর তোমরা যে কোনো সৎকর্মই করো, আল্লাহ তা জানেন।’ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘তোমার ভাইয়ের মুখে হাসি ফোটানো সদকা।’
প্রতিবেশী, আত্মীয় ও সমাজের প্রতি সদাচরণ ইসলামে একটি দায়িত্ব হিসেবে বিবেচিত। কোরআনে বলা হয়েছে, ‘তোমরা আত্মীয়-স্বজন, এতিম, মিসকিন, পথিক ও সাহায্যপ্রার্থীদের প্রাপ্য অধিকার আদায় করো।’ নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সতর্ক করে বলেছেন, ‘সে ব্যক্তি প্রকৃত মুমিন নয়, যে নিজে পেট ভরে খায় অথচ তার প্রতিবেশী ক্ষুধার্ত থাকে।’
ন্যায়বিচার ও সততা সদাচরণের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর প্রতি পক্ষপাত ইসলামে নিষিদ্ধ। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহর জন্য ন্যায়ের সাক্ষী হিসেবে দাঁড়াও, যদিও তা তোমাদের নিজেদের বা পিতা-মাতার বিরুদ্ধে হয়।’ কোরআনে আরও বলা হয়েছে, ‘তোমরা মানুষের সাথে সুন্দরভাবে কথা বলো।’
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ছিলেন সর্বদা বিনয়ী ও সহানুভূতিশীল। তিনি বলেছেন, ‘উত্তম চরিত্রের অধিকারী ব্যক্তিই আমার কাছে সবচেয়ে প্রিয়।’ রূঢ়তা, অহংকার ও বিদ্বেষ থেকে দূরে থাকা ইসলামের অন্যতম শিক্ষা। শান্তি ও সহানুভূতির পথে অগ্রসর হওয়ার নির্দেশ দিয়ে আল্লাহ বলেন, ‘যদি তারা শান্তির দিকে ঝুঁকে পড়ে, তুমিও শান্তির দিকে ঝুঁকো।’ রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘তোমরা মানুষের কল্যাণ করো, আল্লাহ তোমাদের কল্যাণ করবেন।’
সিএ/এমআর


