আসক্তি বর্তমান বিশ্বে একটি গভীর সামাজিক ও মানসিক সংকট হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। মুসলিম সমাজও এই বাস্তবতার বাইরে নয়। মাদক, অ্যালকোহল, জুয়া ও প্রযুক্তিনির্ভর আসক্তি ব্যক্তি জীবন ছাড়িয়ে পারিবারিক ও সামাজিক কাঠামোকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিযায়ী মুসলিমদের মধ্যে সাংস্কৃতিক দ্বন্দ্ব, সামাজিক বিচ্ছিন্নতা এবং মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে সচেতনতার অভাব আসক্তির ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। অনেক সময় বিষণ্নতা বা উদ্বেগকে যথাযথভাবে চিকিৎসা না করে উপেক্ষা করা হয়, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।
ইসলাম আসক্তিকে কেবল শারীরিক সমস্যা হিসেবে নয়, বরং আত্মিক ভারসাম্যহীনতা হিসেবেও দেখে। আধ্যাত্মিক চর্চা, প্রার্থনা এবং আত্মনিয়ন্ত্রণের শিক্ষা মানুষের মানসিক শক্তি বাড়াতে সহায়ক ভূমিকা রাখে। গবেষণায় দেখা গেছে, ধর্মীয় বিশ্বাস ও নিয়মিত ইবাদত আসক্তি থেকে বেরিয়ে আসার ক্ষেত্রে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।
সমাজে আসক্ত ব্যক্তিকে অপরাধী হিসেবে না দেখে অসুস্থ হিসেবে বিবেচনা করা প্রয়োজন। পরিবার, মসজিদ ও সামাজিক সংগঠনগুলোকে সমন্বিতভাবে কাউন্সেলিং ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। শিশু ও কিশোরদের ক্ষেত্রে পরিবারে খোলামেলা যোগাযোগ এবং প্রযুক্তি ব্যবহারে সচেতনতা বাড়ানো জরুরি।
বিশেষজ্ঞ সহায়তা গ্রহণ, মানসিক চিকিৎসা এবং সামাজিক সহমর্মিতার মাধ্যমে একটি আসক্তিমুক্ত সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব বলে মত দেওয়া হয়েছে।
সিএ/এমআর


