প্রিয় নবী (সা.)–এর জীবন আমাদের জন্য চিরন্তন পথপ্রদর্শক। প্রতিদিনের খাবারের মুহূর্তও যদি তাঁর দেখানো পদ্ধতিতে হয়, তা শুধু ক্ষুধা নিবারণ নয়, বরং সওয়াব অর্জনেরও একটি সুযোগ হয়ে দাঁড়ায়।
হাত ধোয়া ও পাত্র প্রস্তুতি:
নবীজি (সা.) খাবার খাওয়ার আগে ভালোভাবে হাত ধুয়ে নিতেন। আয়েশা সিদ্দিকা (রা.) বর্ণনা করেন, তিনি পানাহারের আগে উভয় হাত কবজি পর্যন্ত ধুয়ে নিতেন (মুসনাদে আহমাদ)।
ডান হাত দিয়ে খাওয়া:
রাসুলুল্লাহ (সা.) ডান হাতে খাবার খেতেন এবং বাঁ হাত ব্যবহারের প্রতি নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন। তিনি বলেছিলেন, ‘তোমরা বাম হাতে পানাহার করো না’ (সহিহ্ বুখারি: ৫৩৭৬)।
বিসমিল্লাহ উচ্চারণ:
খাবার শুরুতে তিনি সর্বদা বিসমিল্লাহ বলেন এবং সাহাবিদেরও তা করতে উৎসাহিত করতেন। তিনি নির্দেশ দেন, ‘আল্লাহর নাম নিয়ে ডান হাতে খাবার খাও এবং তোমার দিক থেকে খাও’ (সহিহ্ বুখারি: ৫১৬৭, সুনানে তিরমিজি: ১৯১৩)।
যদি বিসমিল্লাহ বলা ভুলে যান, তাহলে উম্মুল মুমিনিন আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেন, নবীজি (সা.) বলেছেন, ‘তাহলে বলো—বিসমিল্লাহি আওয়ালাহু ওয়া আখিরাহ’ (সুনানে আবু দাউদ: ৩৭৬৭, সুনানে তিরমিজি: ১৮৫৮)।
খাবারের প্রতি যত্ন:
কোনো খাবার দস্তর বা পাত্র থেকে পড়ে গেলে নবীজি (সা.) তা তুলে খেতেন। সামান্য অংশও নষ্ট না হওয়াই শ্রেয়। তিনি বলেন, ‘খাবার খাওয়ার সময় যদি তা পড়ে যায়, তাহলে পরিষ্কার করে তা ভক্ষণ করো’ (সুনানে তিরমিজি: ১৯১৫)।
তাছাড়া, তিনি আঙুল চেটে খেতে উৎসাহিত করতেন, কারণ ‘বরকত কোথায় রয়েছে তা জানো না’ (সুনানে ইবনে মাজাহ: ১৯১৪)।
খাবারের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি:
আল্লাহর দেওয়া খাবারকে গ্রহণ করাই শ্রেয়। নবীজি (সা.) কখনো খাবারের দোষ-ত্রুটি ধরতেন না। তিনি পছন্দমতো খেতেন বা অপছন্দ হলে তা না খেতেন (সহিহ্ বুখারি: ৫১৯৮)।
খাবার শেষে কুলি ও দোয়া:
খাবার শেষে নবীজি (সা.) হাত ধুয়ে কুলি করতেন (মুসনাদে আহমাদ)। এরপর তিনি আল্লাহর শুকরিয়া জানাতেন। আবু উমামা (রা.) বর্ণনা করেন, তিনি বলতেন—
‘আলহামদুলিল্লাহি হামদান কাসিরান তয়্যিবান মুবারাকান ফিহি, গায়রা মাকফিইন, ওলা মুয়াদ্দায়িন ওলা মুসতাগনা আনহু রাব্বানা।’
কখনো তিনি পড়তেন, ‘আলহামদুলিল্লাহিল্লাজি আত–আমানা ওয়াছাকানা ওয়াজাআলানা মিনাল মুসলিমিন’ (সহিহ্ বুখারি: ৫৪৫৮)।
সিএ/এসএ


