দুনিয়ার ক্ষণস্থায়ী জীবনে মুমিনের জন্য উত্তম আমল করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফরজ ইবাদতের পাশাপাশি নফল ও উত্তম আমল মানুষকে আখিরাতে সফল হতে সহায়তা করে। বাহ্যিক আমলের পাশাপাশি অন্তরের শুদ্ধতাও সমান জরুরি। পবিত্র কুরআনে বলা হয়েছে, যে ব্যক্তি নিজেকে পরিশুদ্ধ করে সে সফলকাম হয় এবং যে ব্যক্তি নিজেকে কলুষিত করে সে ব্যর্থ হয়।
মানুষ অনেক সময় শয়তানের ধোঁকায় পড়ে এমন কিছু কাজ করে ফেলে, যা তার আমল নষ্ট করে দেয়। হাদিসে আমলকে পাত্রের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে—পাত্রের তলা ভালো থাকলে উপরের অংশও ভালো থাকে, আর তলা নষ্ট হলে সবকিছুই নষ্ট হয়ে যায়। তাই মুমিনের উচিত সবসময় গুনাহ থেকে সতর্ক থাকা।
প্রথম আমল হলো মহান আল্লাহর ওপর পূর্ণ তাওয়াক্কুল করা। আল্লাহর ওপর ভরসা রাখলে তিনি বান্দার জন্য যথেষ্ট হয়ে যান এবং অপ্রত্যাশিত উৎস থেকে রিজিকের ব্যবস্থা করেন। হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, মানুষ যদি প্রকৃতভাবে আল্লাহর ওপর নির্ভরশীল হতো, তবে পাখিদের মতোই রিজিক পেত।
দ্বিতীয় আমল হলো বেশি বেশি শুকরিয়া আদায় করা। শুকরিয়া আদায় করলে আল্লাহ নেয়ামত আরও বাড়িয়ে দেন। কুরআনে বলা হয়েছে, মানুষ যদি কৃতজ্ঞ হয় তবে নেয়ামত বৃদ্ধি পায়, আর অকৃতজ্ঞ হলে শাস্তি কঠিন হয়। হাদিসে এসেছে, মুমিনের প্রতিটি অবস্থাই তার জন্য কল্যাণকর—সুখে শুকরিয়া করলে কল্যাণ, দুঃখে ধৈর্য ধরলেও কল্যাণ।
তৃতীয় আমল হলো নিয়মিত পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত করা। কুরআন নিজেই বরকতময় কিতাব। কুরআনের অনুসরণ ও তিলাওয়াতের মাধ্যমে রহমত লাভ করা যায়। হাদিসে কুরআন পাঠকারী মুমিনের উদাহরণ দেওয়া হয়েছে সুগন্ধি ও সুস্বাদু ফলের মতো, যা মানুষের জন্য কল্যাণ বয়ে আনে।
এই তিনটি আমল নিয়মিত পালন করলে দুনিয়ার জীবনে বরকত লাভের পাশাপাশি আখিরাতের সফলতাও অর্জন করা সম্ভব।
সিএ/এমআর


