পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহ মানুষের জীবনের বিভিন্ন গভীর আক্ষেপ ও অনুশোচনার চিত্র তুলে ধরেছেন। এসব বর্ণনা মুমিনের জন্য সতর্কবার্তা এবং পথনির্দেশক। দুনিয়ার ক্ষণস্থায়ী জীবনের মোহে পড়ে আখেরাতকে ভুলে যাওয়া, আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের অবাধ্যতা, শিরক ও পাপাচারে লিপ্ত থাকার পরিণতি সম্পর্কে কুরআনে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে। পরকালে এমন কিছু ভুলের কারণে মানুষ গভীর অনুশোচনায় কাঁদবে, যেগুলো এখনই সংশোধন করার সুযোগ রয়েছে।
সুরা আল-ফুরকান (২৫:২৭-২৯)
সেদিন জালেম ব্যক্তি যন্ত্রণায় নিজের হাত কামড়াতে থাকবে। সে বলবে, ‘হায়! আমি যদি রাসূলের দেখানো পথ ধরতাম! হায় আমার দুর্ভাগ্য! আমি যদি অমুককে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ না করতাম! আমার কাছে উপদেশ আসার পরও সে আমাকে বিভ্রান্ত করেছিল।’ শয়তান তো মানুষকে বিপদে ফেলে পালিয়ে যায়।
এ আয়াত থেকে বোঝা যায়, অসৎ সঙ্গ গ্রহণ এবং রাসূলের পথ ত্যাগ করার পরিণতি পরকালে কতটা ভয়াবহ হতে পারে।
সুরা আল-ফজর (৮৯:২৪)
সে বলবে, ‘হায়! আমি যদি আমার (আখেরাতের) জীবনের জন্য কিছু ভালো কাজ আগে পাঠাতাম!’
এই আক্ষেপ দুনিয়ার ব্যস্ততায় ডুবে থেকে আখেরাতের প্রস্তুতি না নেওয়ার করুণ পরিণতির কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।
সুরা আন-নাবা (৭৮:৪০)
নিশ্চয়ই আমি তোমাদের আসন্ন শাস্তি সম্পর্কে সতর্ক করেছি। যেদিন মানুষ তার কৃতকর্ম চোখের সামনে দেখতে পাবে। আর অবিশ্বাসী ব্যক্তি চিৎকার করে বলবে, ‘হায়! আমি যদি আজ মাটি হয়ে যেতাম!’
বিচার দিবসের ভয়াবহতা দেখে অবিশ্বাসীরা নিজেদের অস্তিত্ব মুছে ফেলতে চাইবে—এটাই এই আয়াতের শিক্ষা।
সুরা আল-আনআম (৬:২৭)
আপনি যদি দেখতেন, যখন তাদের আগুনের সামনে দাঁড় করানো হবে! তারা তখন বলবে, ‘হায়! আমাদের যদি পৃথিবীতে ফেরত পাঠানো হতো! তাহলে আমরা আর আমাদের রবের নিদর্শন অস্বীকার করতাম না। আমরা বিশ্বাসীদের অন্তর্ভুক্ত হতাম।’
মৃত্যুর পর আর ফিরে আসার সুযোগ নেই—এ সত্য স্পষ্ট করে দেয় এই আয়াত।
সুরা আল-কাহফ (১৮:৪২)
সে তখন আক্ষেপ করে বলতে লাগল, ‘হায়! আমি যদি আমার রবের সাথে কাউকেই শরিক না করতাম!’
শিরক ও সম্পদের অহংকার মানুষের দুনিয়া ও আখেরাত—দু’টিই ধ্বংস করে দেয়।
সুরা আল-আহযাব (৩৩:৬৬)
যেদিন তাদের মুখমন্ডল আগুনের মধ্যে উলটপালট করা হবে, সেদিন তারা বলবে, ‘হায়! আমরা যদি আল্লাহর আনুগত্য করতাম! আমরা যদি রাসূলের কথা মেনে চলতাম!’
আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের অবাধ্যতার কঠিন পরিণতির চিত্র ফুটে উঠেছে এই আয়াতে।
সুরা আল-হাক্কাহ (৬৯:২৫-২৯)
কিন্তু যার আমলনামা বাম হাতে দেওয়া হবে, সে বলবে, ‘হায়! আমাকে যদি আমার আমলনামাই না দেওয়া হতো! আমি যদি না জানতাম আমার হিসাব কী! হায়! মৃত্যুই যদি আমার শেষ ফয়সালা হতো! আমার ধন-সম্পদ আমার কোনো কাজেই লাগল না। আমার সব ক্ষমতাও আজ ধ্বংস হয়ে গেছে।’
এই আয়াত শিক্ষা দেয়, অবৈধ পথে অর্জিত সম্পদ ও ক্ষমতা পরকালে কোনো কাজে আসবে না।
কুরআন মানুষের জীবনের সঠিক পথের দিশারী। এসব আয়াত আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়, ঈমানহীনতা, নামাজে অবহেলা, সময়ের অপচয় এবং পাপে লিপ্ত থাকার পরিণতি অত্যন্ত ভয়াবহ। এখনই সঠিক পথে ফিরে আসার সময়, যেন পরকালে এসব আক্ষেপ নিয়ে কাঁদতে না হয়।
সিএ/এসএ


