আল্লাহ তাআলা মানুষ ছাড়াও বহু অদৃশ্য সৃষ্টি করেছেন, যার মধ্যে জিন অন্যতম। কোরআন ও সহিহ হাদিসে জিনের অস্তিত্ব সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত। পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, ‘আর জিন ও মানুষকে শুধু এ জন্যই সৃষ্টি করেছি যে তারা আমার ইবাদত করবে।’ (সুরা: জারিয়াত, আয়াত: ৫৬)।
সমাজে জিন নিয়ে নানা কুসংস্কার ও অতিরঞ্জিত ধারণা প্রচলিত থাকলেও ইসলাম এ বিষয়ে ভারসাম্যপূর্ণ ও দলিলভিত্তিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রদান করেছে। কোরআনে জিনদের বক্তব্য উদ্ধৃত করে তাদের ভেতরের বৈচিত্র্য তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, জিনদের মধ্যে কেউ মুসলমান, কেউ কাফির এবং তারা বিভিন্ন পথ ও মতের অনুসারী। এতে বোঝা যায়, জিনরাও বিবেকসম্পন্ন সৃষ্টি এবং শরিয়তের বিধান তাদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।
হাদিসের আলোকে জিনদের প্রধানত তিন শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে। এক শ্রেণির জিনের ডানা আছে এবং তারা আকাশে উড়ে বেড়ায়। আরেক শ্রেণি সাপ বা দুষ্ট জিন হিসেবে পরিচিত। তৃতীয় শ্রেণি মানুষের মতো চলাফেরা করে এবং বিভিন্ন স্থানে বসবাস করে। (সহিহুল জামি, ইবনে হিব্বান)।
কিছু হাদিসে ঘরে বসবাসকারী জিনের কথাও এসেছে, যাদের আওয়ামিরুল বুয়ূত বলা হয়। তারা মাঝে মাঝে সাপের রূপ ধারণ করতে পারে। এজন্য এ ধরনের সাপ দেখলে তাড়াহুড়া করে আঘাত না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
জিনদের রূপান্তর ক্ষমতার বিষয়টিও হাদিসে বর্ণিত হয়েছে। সহিহ বুখারিতে উল্লেখ আছে, শয়তান একবার গরিব মানুষের আকৃতিতে আবু হুরায়রা (রা.)-এর কাছে এসেছিল। আলেমদের ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, জিনেরা কখনো পশুর আকৃতিও ধারণ করতে পারে।
সিএ/এমআর


