২০২৬ সালের সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ পালনকারী হজযাত্রীদের সেবা নিশ্চিত করতে শর্তসাপেক্ষে ১০০ জনকে হজ গাইড হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে সরকার। ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় এ সংক্রান্ত একটি অফিস আদেশ জারি করেছে।
সিএ/এসএ
ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আদেশে বলা হয়েছে, হজ ও ওমরাহ ব্যবস্থাপনা বিধিমালার শর্তাবলী প্রতিপালন সাপেক্ষে ২০২৬ সালের হজ মৌসুমে সৌদি আরবের মক্কা, মদিনা, মিনা, আরাফা ও মুজদালিফাসহ বিভিন্ন স্থানে সরকারি হজযাত্রীদের সেবা দেওয়ার জন্য এ ১০০ জন হজ গাইড নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
অফিস আদেশ অনুযায়ী, নিয়োগপ্রাপ্ত হজ গাইডদের হজ অফিস, ঢাকায় নন-জুডিসিয়াল স্ট্যাম্পে অঙ্গীকারনামা সম্পাদন করতে হবে। দায়িত্ব পালনকালে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনার জন্য কর্তৃপক্ষ দায়ী থাকবে না এবং এ বিষয়ে কোনো ধরনের ক্ষতিপূরণ দাবি করা যাবে না বলেও আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।
এতে আরও বলা হয়, হজ গাইডদের জন্য প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ বাধ্যতামূলক। একজন হজ গাইডকে গড়ে ৪৬ জন হজযাত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হবে, প্রয়োজনে এ সংখ্যা কম বা বেশি হতে পারে। হজে গমন থেকে বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তন পর্যন্ত পুরো সময়জুড়ে সংশ্লিষ্ট হজযাত্রীদের সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করতে হবে।
হজযাত্রীদের নামের তালিকা পাওয়ার পর প্রত্যেক হজ গাইড নিজ নিজ গ্রুপের সবাইকে অন্তর্ভুক্ত করে একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ খুলবেন। এই গ্রুপের মাধ্যমে যোগাযোগ বজায় রাখা, প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া এবং হজ সংক্রান্ত তথ্য জানানো তাদের দায়িত্বের অংশ হবে। পাশাপাশি হজ ভিসার জন্য বায়োমেট্রিক সম্পাদন, টিকা গ্রহণ, পাসপোর্ট সংগ্রহ, ভিসার আবেদন দাখিল ও বিমানের টিকিট সংগ্রহে হজযাত্রীদের সহায়তা করতে হবে।
এ ছাড়া হজের আরকান ও আহকাম সম্পর্কে হজযাত্রীদের তা’লিম প্রদান, সৌদি আরবে বাংলাদেশ হজ প্রশাসনিক দল, কাউন্সেলর (হজ) এবং সহকারী মৌসুমী হজ অফিসারের তত্ত্বাবধানে দায়িত্ব পালন করার কথাও আদেশে বলা হয়েছে।
আচরণবিধি সম্পর্কে নির্দেশনায় বলা হয়, হজ গাইডরা কোনো হজযাত্রীর ব্যক্তিগত কাজে যুক্ত হতে পারবেন না এবং খাবার ক্রয় বা অন্য কোনো আর্থিক লেনদেনে অংশ নিতে পারবেন না। হজযাত্রীদের সঙ্গে সবসময় নম্র ও ভদ্র আচরণ করতে হবে এবং সরকার বা দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয়—এমন কোনো কর্মকাণ্ডে জড়ানো যাবে না।
কোনো হজযাত্রী হারিয়ে গেলে তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে এবং অসুস্থ হজযাত্রীদের দ্রুত চিকিৎসা কেন্দ্রে নেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। একই সঙ্গে জেদ্দা, মক্কা ও মদিনায় অবস্থিত বাংলাদেশ হজ অফিসের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতে হবে।
অফিস আদেশে আরও বলা হয়, নির্ধারিত ইউনিফর্ম পরিধান এবং সফরের সময় দৃশ্যমানভাবে জাতীয় পতাকা বহন করা বাধ্যতামূলক। বাংলাদেশে ফিরে আসার পর হজ সংক্রান্ত সার্বিক কার্যক্রম তুলে ধরে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে একটি লিখিত প্রতিবেদন জমা দিতে হবে।
চাকুরিরত হজ গাইডদের ক্ষেত্রে সৌদি আরবে অবস্থানকাল কর্মকাল বা অন ডিউটি হিসেবে গণ্য হবে। এজন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ছাড়পত্র দাখিল করতে হবে। প্রতিটি হজ গাইড তার গ্রুপের হজযাত্রীর মতো সব সুযোগ-সুবিধা ভোগ করবেন এবং সৌদি আরবে মোবাইল ও আনুষঙ্গিক ব্যয় বাবদ নির্ধারিত অর্থও পাবেন।
সিএ/এসএ


