বর্তমান সময়ে মুসলিম তরুণদের জীবনে নানা ধরনের মানসিক ও সামাজিক চাপ বাড়ছে। পারিবারিক প্রত্যাশা, সামাজিক বাস্তবতা এবং ব্যক্তিগত হতাশার সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে শয়তানের কুমন্ত্রণা, যা ধীরে ধীরে মানুষের ঈমান ও মানসিক স্থিতি দুর্বল করে দিতে পারে। এমন বাস্তবতায় কোরআনের শিক্ষা মানুষের জন্য সবচেয়ে বড় আশ্রয় হয়ে উঠতে পারে।
এই প্রেক্ষাপটে কোরআনের শেষ সুরা সুরা আন-নাস মানুষকে মানসিক ও আত্মিক নিরাপত্তার পথ দেখায়। ছোট আয়াতের এই সুরাটি মানবজীবনের গভীর বাস্তবতার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত এবং দুর্বল ও ঝুঁকিতে থাকা মানুষের জন্য আশ্রয়ের দোয়া হিসেবে বিবেচিত।
হাদিস থেকে জানা যায়, সুরা আন-নাস মক্কায় অবতীর্ণ এবং এতে মোট ছয়টি আয়াত রয়েছে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এই সুরাটিকে সুরা আল-ফালাকের সঙ্গে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। তিনি নিয়মিতভাবে জিন, বদনজর ও অদৃশ্য অনিষ্ট থেকে রক্ষার জন্য এই দুই সুরা পাঠ করতেন। অসুস্থতার সময়ও তিনি এগুলো পড়ে নিজের ওপর ফুঁ দিতেন বলে হাদিসে উল্লেখ রয়েছে।
সুরা আন-নাসে আল্লাহকে মানুষের রব, মানুষের বাদশাহ এবং মানুষের একমাত্র উপাস্য হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়েছে। এরপর গোপনে কুমন্ত্রণা দেওয়া শয়তান এবং ক্ষতিকর মানব সঙ্গীর অনিষ্ট থেকে আল্লাহর আশ্রয় চাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এই সুরায় আল্লাহর তিনটি গুরুত্বপূর্ণ গুণের কথা তুলে ধরা হয়েছে। প্রথমত, রব হিসেবে তিনি সৃষ্টিকর্তা ও প্রতিপালক। দ্বিতীয়ত, বাদশাহ হিসেবে তিনি সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী। তৃতীয়ত, উপাস্য হিসেবে কেবল তিনিই ইবাদতের যোগ্য। এই তিনটি গুণের মাধ্যমে বোঝানো হয়েছে, সব ধরনের অনিষ্ট থেকে রক্ষার ক্ষেত্রে একমাত্র ভরসাস্থল আল্লাহ তায়ালা।
তাফসিরকারদের মতে, শয়তান মানুষের অন্তরে কুমন্ত্রণা দেয়, তবে আল্লাহকে স্মরণ করা হলে সে সরে যায়। মানুষ যখন গাফেল হয়ে পড়ে, তখন কুমন্ত্রণার প্রভাব আরও বাড়ে। তাই সব সময় সচেতন থাকা এবং আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাওয়ার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
সুরা আন-নাসে মানব সমাজের ক্ষতিকর সঙ্গীদের দিকেও ইঙ্গিত রয়েছে। যারা মিথ্যা ছড়ায়, গিবত করে, অন্যায় কামনাকে সুন্দরভাবে উপস্থাপন করে এবং সুদ, ব্যভিচার, জুয়া ও মদ্যপানে মানুষকে উৎসাহিত করে, তাদের মানব শয়তানের অন্তর্ভুক্ত বলা হয়েছে।
মানুষ একা এসব কুমন্ত্রণার মোকাবিলা করতে সক্ষম নয়। তাই সব অবস্থায় আল্লাহর ওপর ভরসা করা এবং তাঁর কাছে আশ্রয় চাওয়াই নিরাপদ পথ। সুরা আন-নাস সেই আশ্রয়ের ভাষা ও দিকনির্দেশনা শিক্ষা দেয়, যা ব্যক্তি ও সমাজ—উভয়ের জন্যই প্রাসঙ্গিক।
সিএ/এমআর


