মানুষের স্বাভাবিক চাহিদার মধ্যে খাদ্য অন্যতম। প্রত্যেক ব্যক্তির রুচি ও শারীরিক চাহিদা অনুযায়ী খাবারের পরিমাণ ভিন্ন হতে পারে। কেউ বেশি পরিমাণে খাবার গ্রহণ করেন, আবার কেউ কম। অনেকের ধারণা, অতিরিক্ত খাওয়া শয়তানের প্ররোচনার ফল হতে পারে। তবে ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকে বিষয়টি কেমন, তা আলেমরা ব্যাখ্যা করেছেন।
বিশেষজ্ঞ আলেমদের মতে, একজন মুসলমানের জন্য জরুরি হলো, খাদ্য গ্রহণ এমনভাবে করা যাতে পেটের চাহিদা বা অন্যান্য প্রবৃত্তি তার ওপর প্রভাব বিস্তার না করে। প্রয়োজনের অতিরিক্ত ভোগ-বিলাস পরিহার করাই ইসলামের শিক্ষা। তবে যদি অতিরিক্ত খাবার গ্রহণ শরীরের ক্ষতির কারণ না হয়, ততক্ষণ তা হারাম নয়। শারীরিকভাবে তৃপ্ত হয়ে খাওয়া ইসলামী শরিয়তের আলোকে বৈধ। কোরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন, তোমরা খাও ও পান করো, কিন্তু অপচয় করো না।
অতিরিক্ত খাবার তখনই ক্ষতিকর, যখন পরিমাণ শরীরের জন্য কষ্টদায়ক হয়ে ওঠে। ফিকহবিদরা বলেন, এমনভাবে খাওয়া যাতে শ্বাস নিতে কষ্ট হয়, দাঁড়াতে বা শুতে সমস্যা হয়, তা অপছন্দনীয়। শারীরিক ক্ষতির পর্যায়ে পৌঁছানো অতিভোজন নিষিদ্ধও হতে পারে। ইসলামি চিন্তাবিদরা বলেছেন, নিজের ক্ষতি হওয়ার মাত্রায় খাওয়া বৈধ নয়, কারণ ইসলামের নীতি হলো নিজের বা অন্যের ক্ষতি করা যাবে না। এ ধরনের অতিভোজনকে শয়তানের কুমন্ত্রণা ও প্ররোচনার ফল হিসাবেও দেখা হয়েছে।
যদি কেউ স্বাভাবিকভাবেই বেশি খায়, কিন্তু শরীরের কোনো ক্ষতি না হয়, তাহলে আল্লাহর কাছে জবাবদিহি প্রযোজ্য নয়। মূলত, ইসলামে খাবারের পরিমাণের ওপর সরাসরি নিষেধ নেই; বরং ক্ষতিকর প্রভাব বিবেচনা করে সংযত ও পরিমিতভাবে খাবার গ্রহণ করার প্রতি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
সিএ/এমআর


