আল্লাহর কল্যাণ চাওয়া বান্দার জন্য কোনো ক্ষতি করতে পারে না। অসহায় মুহূর্তে আল্লাহর সহায়তা এবং পূর্ণ ভরসা এক ফিলিস্তিনি শরণার্থীর জীবনে বাস্তব রূপ নিয়েছে। ব্রিটেনে বসবাসরত এক ফিলিস্তিনি শরণার্থী বলেন, তার ভিসার মেয়াদ শেষ হতে কয়েক সপ্তাহ বাকি ছিল। তার কাছে পাসপোর্টের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আর কিছু ছিল না। সব নথিপত্র তিনি একটি ছোট প্লাস্টিকের ব্যাগে রাখেন, যাতে চোর বা ছিনতাইকারী তা নিতে না পারে।
একদিন অফিসে গেলে তিনি দেখেন, রাতে চোররা অফিসের দরজা ভেঙে সব মূল্যবান জিনিসপত্র লুটে নিয়েছে। বিধ্বস্ত হয়ে তিনি অফিসের জিনিসপত্র গোছাতে গিয়ে ব্যাগটির কথা ভুলে যান। পরদিন খোঁজাখুঁজি করেও কোথাও ব্যাগটি পাননি। পুলিশ এক সপ্তাহ, দুই সপ্তাহ সময় দিলেও ফলাফল শূন্য। নির্দিষ্ট দিনে হাজির না হলে তার অবস্থান অবৈধ হবে—মহাবিপদ তখন তার সামনে।
পুলিশের কাছে যাওয়ার দিন সকালে অফিসে কিছু কাজ করতে গিয়ে তার মনে হলো, সব হারিয়ে গেছে, এবার আল্লাহর কাছে দোয়া করা যাক। জায়নামাজে দাঁড়িয়ে তিনি আল্লাহর কাছে দোয়া করলেন— “হে আল্লাহ! আপনি আমার বিপদ দূর করুন, আমার হারানো জিনিসটি খুঁজে পেতে সাহায্য করুন। আপনি ছাড়া আমার আজ আর কোনো সাহায্যকারী নেই।”
দোয়া শেষে সালাম ফিরিয়ে তাকাতেই তিনি দেখলেন, চোখের সামনে সেই প্লাস্টিকের ব্যাগটি পড়ে আছে। অবাক হয়ে দ্রুত ব্যাগটি হাতে নিলেন এবং সিজদায় শোকর আদায় করলেন। পরে বুঝতে পারলেন, চুরি হওয়ার দিনই ব্যাগটি অফিসের জিনিসপত্রের নিচে ঢাকা পড়েছিল, আর আল্লাহর কুদরতে আজ তা তাঁর নজরে এলো।
এ ঘটনা নবীজি (সা.)-এর হাদিসের স্মরণ করিয়ে দেয়। হজরত আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, কোনো কল্যাণ চাইলে একমাত্র আল্লাহর কাছেই চাওয়া উচিত। একত্রিত বিশ্ববাসীও যদি কল্যাণ বা ক্ষতি করতে চায়, তা কেবল আল্লাহর বরাদ্দ অনুযায়ী।
অসহায় অবস্থায় কুরআনুল কারিমের একটি দোয়া প্রার্থনা করা যায়। হজরত নুহ (আ.) দীর্ঘকাল মানুষকে দাওয়াত দিলেও ব্যর্থতার পর তিনি আল্লাহর দরবারে বলেছিলেন—
رَبِّ أَنِّي مَغْلُوبٌ فَانْتَصِرْ
উচ্চারণ: ‘রাব্বি আন্নি মাগলুবুন ফানতাসির’
অর্থ: ‘হে আমার রব! আমি সম্পূর্ণ পরাভূত— আপনি আমাকে সাহায্য করুন।’ (সুরা আল-কামার: আয়াত ১০)
এই দোয়ায় রয়েছে অসহায় স্বীকারোক্তি এবং আল্লাহর প্রতি পূর্ণ ভরসা, যা ব্যর্থতার মুহূর্তে মুক্তির পথ দেখায়।
সিএ/এসএ


