চুম্বন সাধারণত ভালোবাসা প্রকাশের একটি স্বাভাবিক মাধ্যম হিসেবে বিবেচিত হলেও এর মাধ্যমে কিছু সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকিও রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চুম্বনের ফলে কিছু উপকারী হরমোন নিঃসৃত হলেও কিছু ক্ষেত্রে তা জটিল রোগের কারণ হতে পারে।
এমনই একটি সংক্রমণ হলো ইনফেকশাস মনোনিউক্লিওসিস, যা ‘কিসিং ডিজিজ’ নামে পরিচিত। এই রোগ মূলত এপস্টিন-বার ভাইরাসের কারণে হয় এবং লালার মাধ্যমে সহজেই একজন থেকে আরেকজনের শরীরে ছড়িয়ে পড়ে।
শুধু চুম্বন নয়, কাশি-হাঁচি, একই গ্লাস বা বাসন ব্যবহার কিংবা শরীরের অন্যান্য তরলের মাধ্যমেও এই ভাইরাস সংক্রমিত হতে পারে। বিশেষ করে কিশোর ও তরুণদের মধ্যে এ রোগের প্রকোপ বেশি দেখা যায়।
এই রোগের সাধারণ উপসর্গগুলোর মধ্যে রয়েছে জ্বর, গলা ব্যথা, তীব্র ক্লান্তি, লিম্ফ নোড ফুলে যাওয়া এবং শরীর দুর্বল হয়ে পড়া। অনেক ক্ষেত্রে রোগীরা এতটাই দুর্বল হয়ে পড়েন যে স্বাভাবিক কাজকর্ম করাও কঠিন হয়ে যায়।
চিকিৎসকেরা সাধারণত উপসর্গ দেখে প্রাথমিক ধারণা নেন এবং নিশ্চিত হওয়ার জন্য রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে ভাইরাস শনাক্ত করেন। যেহেতু এটি ভাইরাসজনিত রোগ, তাই অ্যান্টিবায়োটিক এতে কার্যকর নয়। বিশ্রাম, পর্যাপ্ত পানি পান এবং উপসর্গ অনুযায়ী চিকিৎসাই এখানে প্রধান ভরসা।
সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, যারা একাধিকবার এই রোগে আক্রান্ত হয়েছেন, তাদের মধ্যে ভবিষ্যতে স্নায়বিক জটিলতা দেখা দেওয়ার ঝুঁকি কিছুটা বেশি। বিশেষ করে মাল্টিপল স্ক্লেরোসিস নামের একটি অটোইমিউন রোগের সঙ্গে এর সম্পর্ক খুঁজে পাওয়া গেছে।
প্রায় ১৯ হাজার মানুষের ওপর দীর্ঘ ২০ বছর ধরে চালানো গবেষণায় দেখা যায়, একাধিকবার আক্রান্তদের মধ্যে এমএসে আক্রান্ত হওয়ার হার তুলনামূলক বেশি। যদিও এই ঝুঁকি খুব বেশি নয়, তবুও বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
মাল্টিপল স্ক্লেরোসিস এমন একটি রোগ, যেখানে শরীরের প্রতিরোধ ব্যবস্থা স্নায়ুর আবরণকে আক্রমণ করে। ফলে মস্তিষ্ক থেকে শরীরের বিভিন্ন অংশে সংকেত প্রেরণে সমস্যা তৈরি হয় এবং নানা শারীরিক জটিলতা দেখা দিতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কিসিং ডিজিজ সাধারণ হলেও উপসর্গ দীর্ঘস্থায়ী হলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।
সিএ/এমআর


