বাংলাদেশসহ বিশ্বের অনেক অঞ্চলে এখনো কিশোরী বয়সে বিয়ে ও মাতৃত্ব একটি বাস্তবতা হিসেবে রয়ে গেছে। সামাজিক ও পারিবারিক চাপের কারণে অল্প বয়সেই অনেক মেয়েকে বিবাহিত জীবনে প্রবেশ করতে হয় এবং অল্প সময়ের মধ্যেই তারা মা হয়ে ওঠে। তবে চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে এটি মা ও শিশুর জন্য বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কিশোরী বয়সে একটি মেয়ের শরীর পুরোপুরি পরিপক্ব হয়ে ওঠে না। এই সময়ে গর্ভধারণ করলে শরীরকে একই সঙ্গে নিজের বৃদ্ধি ও ভ্রূণের চাহিদা পূরণ করতে হয়, যা জটিলতা তৈরি করতে পারে।
অপুষ্টি এই ঝুঁকির অন্যতম বড় কারণ। অনেক কিশোরীই আগে থেকেই পুষ্টিহীনতায় ভোগে। গর্ভধারণের পর প্রয়োজনীয় পুষ্টির ঘাটতি আরও বেড়ে যায়, যার ফলে শিশুর কম ওজন নিয়ে জন্ম নেওয়া বা দুর্বল হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
রক্তস্বল্পতাও কিশোরী মায়েদের মধ্যে বেশি দেখা যায়। এতে গর্ভাবস্থায় দুর্বলতা, মাথা ঘোরা এবং প্রসবের সময় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের ঝুঁকি থাকে, যা কখনো প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে।
এ ছাড়া শারীরিকভাবে প্রস্তুত না থাকায় প্রসবকালীন জটিলতাও বেশি হয়। অনেক ক্ষেত্রে স্বাভাবিক প্রসব সম্ভব হয় না এবং অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হয়। পাশাপাশি উচ্চ রক্তচাপ, প্রি-এক্লাম্পসিয়া বা খিঁচুনির মতো জটিলতা দেখা দিতে পারে।
শুধু শারীরিক নয়, মানসিক চাপও একটি বড় বিষয়। অল্প বয়সে সংসার ও সন্তানের দায়িত্ব নেওয়ার কারণে অনেক কিশোরী উদ্বেগ, হতাশা বা বিষণ্ণতায় ভোগে। একই সঙ্গে তাদের শিক্ষা ও ব্যক্তিগত স্বপ্নও বাধাগ্রস্ত হয়।
শিশুর ক্ষেত্রেও ঝুঁকি কম নয়। অকাল জন্ম, শ্বাসকষ্ট এবং বিভিন্ন শারীরিক জটিলতা দেখা দিতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে বিশেষ চিকিৎসার প্রয়োজন হয়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিরাপদ মাতৃত্ব নিশ্চিত করতে উপযুক্ত বয়সে বিয়ে ও সন্তান নেওয়া জরুরি। পাশাপাশি কিশোরীদের পুষ্টি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার প্রতি গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
সিএ/এমআর


