মৌসুম পরিবর্তনের সময়ে শিশুদের মধ্যে নানা সংক্রামক রোগ দেখা যায়, যার অনেকগুলোর উপসর্গ শুরুতে প্রায় একই রকম হতে পারে। জ্বর, কাশি, শরীরব্যথা কিংবা ত্বকে ফুসকুড়ি দেখা দিলে অনেকেই তা হাম হিসেবে ধরে নেন। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই উপসর্গগুলো অন্য রোগের কারণেও হতে পারে।
জলবসন্ত বা চিকেন পক্স বর্তমানে শিশুদের মধ্যে বেশ দেখা যাচ্ছে। এ রোগে জ্বর, মাথাব্যথা এবং শীত শীত ভাবের সঙ্গে এক থেকে দুই দিনের মধ্যে শরীরে লালচে ফুসকুড়ি দেখা দেয়। এগুলো পানি বা পুঁজে ভরা থাকে এবং পরে ফেটে ঘায়ের মতো হয়ে যায়। সাধারণত পেট ও পিঠ থেকে শুরু হয়ে সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়ে এবং চুলকানি সৃষ্টি করে।
জার্মান মিজলস বা রুবেলা রোগেও র্যাশ দেখা যায়। এতে কানের পাশ ও গলার লসিকাগ্রন্থি ফুলে যায় এবং ব্যথা করে। র্যাশ সাধারণত তিন দিনের মধ্যে মিলিয়ে যায় এবং তুলনামূলকভাবে কম চুলকায়।
হ্যান্ড-ফুট-মাউথ রোগে পাঁচ বছরের নিচের শিশুদের বেশি আক্রান্ত হতে দেখা যায়। এতে জ্বরের পাশাপাশি মুখে ঘা এবং হাত-পায়ে ফোসকা দেখা দেয়। এটি দ্রুত ছড়ায় এবং সাধারণত এক সপ্তাহের মধ্যে সেরে যায়।
মেনিনগোকক্কেমিয়া একটি গুরুতর ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণ, যা শিশুদের মধ্যে বেশি দেখা যায়। এতে জ্বর, শ্বাসকষ্ট, বমি এবং শরীরে লাল বা বেগুনি দাগ দেখা দেয়। দ্রুত চিকিৎসা না নিলে জটিলতা এমনকি মৃত্যুও হতে পারে।
ডেঙ্গুতেও জ্বরের কয়েকদিন পর ত্বকে র্যাশ দেখা দিতে পারে, যা দেখতে হামের মতোই। অন্যদিকে হাম রোগে জ্বর, কাশি ও সর্দির সঙ্গে মুখ বা কানের পেছন থেকে র্যাশ শুরু হয়ে দ্রুত সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়ে।
চিকিৎসকরা পরামর্শ দিচ্ছেন, জ্বর ও র্যাশ দেখা দিলে তা অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত, যাতে সঠিক রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা নিশ্চিত করা যায়।
সিএ/এমআর


