ঝাল খাবার অনেকের জন্য কষ্টদায়ক অভিজ্ঞতা হলেও বিশ্বের বিপুল সংখ্যক মানুষ এটিকে উপভোগ করেন। মুখে জ্বালা ও চোখে পানি আসার পরও ঝাল খাবারের প্রতি আকর্ষণের পেছনে রয়েছে কিছু বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ঝাল কোনো স্বাদ নয়; এটি মূলত জ্বালার অনুভূতি। মরিচে থাকা ক্যাপসাইসিন নামক উপাদান জিহ্বার স্বাদগ্রাহী কোষকে নয়, বরং তাপ ও ব্যথা শনাক্তকারী রিসেপ্টরকে উদ্দীপিত করে। ফলে মস্তিষ্কে আগুনের মতো উত্তাপের অনুভূতি তৈরি হয়।
গবেষণায় দেখা গেছে, যারা ঝুঁকি ও রোমাঞ্চ পছন্দ করেন, তারা ঝাল খাবারের প্রতিও বেশি আকৃষ্ট হন। কারণ ঝাল খাওয়া এক ধরনের ‘নিরাপদ ঝুঁকি’। এতে সাময়িক অস্বস্তি হলেও শরীরের বড় ধরনের ক্ষতি হয় না। মনোবিজ্ঞানে এই প্রবণতাকে ‘সেনসেশন সিকিং’ বলা হয়।
এছাড়া ঝাল খাওয়ার সময় শরীরে এন্ডোরফিন নামের রাসায়নিক নিঃসৃত হয়, যা স্বাভাবিকভাবে আনন্দের অনুভূতি তৈরি করে। এই কারণেও অনেকেই ঝাল খাওয়াকে উপভোগ করেন।
অভ্যাস ও জিনগত বৈশিষ্ট্যও এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। নিয়মিত ঝাল খেলে শরীর ধীরে ধীরে এর সঙ্গে মানিয়ে নেয়। আবার কারও কারও জিনগত কারণেও ঝাল সহ্য করার ক্ষমতা বেশি থাকে, ফলে তারা ঝাল খাবার বেশি পছন্দ করেন।
সিএ/এমআর


