এডিএইচডি বা অ্যাটেনশন ডেফিসিট হাইপার অ্যাক্টিভিটি ডিসঅর্ডারকে অনেকেই শুধুমাত্র শিশুদের সমস্যা হিসেবে দেখেন। তবে সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা যাচ্ছে, শৈশবে এডিএইচডিতে আক্রান্তদের একটি বড় অংশ প্রাপ্তবয়স্ক বয়সেও এর প্রভাব বহন করেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মনোযোগ ধরে রাখতে না পারা, এক কাজ শেষ করার আগেই অন্য কাজে চলে যাওয়া, সময় ব্যবস্থাপনায় ব্যর্থতা—এসব লক্ষণ শুধু শিশুদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। অনেক প্রাপ্তবয়স্ক মানুষও প্রতিনিয়ত এ ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন, যার পেছনে এডিএইচডি ভূমিকা রাখতে পারে।
এডিএইচডি একটি নিউরোডেভেলপমেন্টাল ডিসঅর্ডার, যা মস্তিষ্কের মনোযোগ, আচরণ নিয়ন্ত্রণ এবং পরিকল্পনা করার সক্ষমতাকে প্রভাবিত করে। শৈশবে এ রোগ শনাক্ত হলে চিকিৎসা ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে অনেকটাই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। তবে অনেক ক্ষেত্রে এটি অচিহ্নিত থেকে যায়, যার ফলে প্রাপ্তবয়স্ক জীবনে নানা জটিলতা দেখা দেয়।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যমতে, বিশ্বের প্রায় ২ দশমিক ৫ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক এডিএইচডিতে আক্রান্ত। তাদের মধ্যে অনেকেই কাজ শেষ করতে দেরি করেন, দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হন এবং আবেগ নিয়ন্ত্রণে সমস্যায় পড়েন। এর প্রভাব পড়তে পারে পেশাগত জীবন, পড়াশোনা এবং ব্যক্তিগত সম্পর্কেও।
বিশেষজ্ঞরা জানান, প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে এডিএইচডি সব সময় দৃশ্যমান অস্থিরতার মাধ্যমে প্রকাশ পায় না। অনেক সময় এটি অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা, মনোযোগহীনতা এবং বিশৃঙ্খল চিন্তার মাধ্যমে প্রকাশিত হয়। ফলে উদ্বেগ ও বিষণ্নতার মতো সমস্যার সঙ্গে মিশে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।
এডিএইচডির কারণ হিসেবে জিনগত প্রভাবকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। পাশাপাশি গর্ভাবস্থায় অপুষ্টি, ধূমপান, অ্যালকোহল গ্রহণ বা পরিবেশগত ঝুঁকিও এর পেছনে ভূমিকা রাখতে পারে। মস্তিষ্কের যে অংশগুলো মনোযোগ ও আত্মনিয়ন্ত্রণে কাজ করে, সেগুলোর কার্যক্রম এডিএইচডি আক্রান্তদের ক্ষেত্রে তুলনামূলক কম সক্রিয় থাকে।
চিকিৎসার ক্ষেত্রে আচরণগত থেরাপি, ওষুধ এবং পারিবারিক ও সামাজিক সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য কাউন্সেলিং, সময় ব্যবস্থাপনার কৌশল এবং প্রযুক্তিনির্ভর সহায়তা কার্যকর হতে পারে।
সচেতনতার অভাব এবং মানসিক স্বাস্থ্যসেবার সীমাবদ্ধতার কারণে অনেক ক্ষেত্রেই এডিএইচডি দেরিতে শনাক্ত হয়। বিশেষজ্ঞরা এ বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানোর ওপর জোর দিয়েছেন।
সিএ/এমআর


