মানুষের শরীরের গন্ধ শুধু ব্যক্তিগত পরিচয়ের অংশ নয়, বরং এটি বহন করে নানা জৈবিক ও মনস্তাত্ত্বিক তথ্য। আমরা সাধারণত কারো চেহারা বা আচরণের দিকে নজর দিলেও, বিজ্ঞানীরা বলছেন শরীরের ঘ্রাণ মানুষের স্বাস্থ্য, খাদ্যাভ্যাস এবং জিনগত বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ ধারণা দেয়।
বিভিন্ন রোগের ক্ষেত্রেও শরীরের গন্ধ পরিবর্তিত হতে পারে। যেমন, কলেরা আক্রান্ত ব্যক্তির শরীর থেকে মিষ্টি ধরনের গন্ধ বের হতে পারে, আবার ডায়াবেটিসের ক্ষেত্রে পচা ফলের মতো গন্ধ অনুভূত হতে পারে। গবেষকরা বলছেন, খাদ্যাভ্যাসও শরীরের ঘ্রাণে প্রভাব ফেলে। বিশেষ করে যারা বেশি মাংস খান, তাদের শরীরের গন্ধ অন্যদের কাছে ভিন্নভাবে ধরা পড়ে।
মানুষের শরীরের গন্ধের একটি বড় অংশ নির্ধারিত হয় জিনগত কাঠামোর মাধ্যমে। যমজদের ক্ষেত্রে এই গন্ধ প্রায় একই রকম হয়, যা তাদের আলাদা করা কঠিন করে তোলে। মায়ের সঙ্গে সন্তানের শরীরের গন্ধের মিল থাকলেও বাবার ক্ষেত্রে এই প্রভাব ততটা স্পষ্ট নয়।
গবেষণায় আরও দেখা গেছে, অবিবাহিত পুরুষদের শরীরের গন্ধ সাধারণত বেশি তীব্র হয়। এর পেছনে কাজ করে টেস্টোস্টেরন হরমোন। সম্পর্ক বা পিতৃত্বের সঙ্গে যুক্ত পুরুষদের শরীরে এই হরমোনের মাত্রা কমে যেতে পারে, ফলে তাদের গন্ধ তুলনামূলকভাবে কম তীব্র হয়। অন্যদিকে, উচ্চ টেস্টোস্টেরনযুক্ত তরুণ বা অবিবাহিত পুরুষদের ক্ষেত্রে গন্ধ বেশি প্রকট হয়।
তবে জীবনসঙ্গী নির্বাচনে শরীরের গন্ধের প্রভাব তুলনামূলকভাবে কম। মানুষ সাধারণত বাহ্যিক সৌন্দর্য ও সামাজিক বিষয়গুলোকেই বেশি গুরুত্ব দেয়। গবেষকদের মতে, ঘ্রাণ অনেক ক্ষেত্রে বেশি নির্ভুল তথ্য দিলেও আমাদের দৃষ্টিনির্ভর অভ্যাসই সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলে।
সিএ/এমআর


