প্রযুক্তি মানুষের জীবনকে সহজ করার কথা থাকলেও বাস্তবতায় ডিজিটাল নির্ভরতা অনেকের জন্য মানসিক ও শারীরিক ক্লান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্মার্টফোন, ল্যাপটপ ও ইন্টারনেটভিত্তিক জীবনযাপনের ফলে দিনের শেষে অনেকেই অবসন্নতা অনুভব করছেন।
ডিজিটাল জীবনের একটি বড় বৈশিষ্ট্য হলো সবসময় অনলাইনে থাকা। অফিসের কাজ, ব্যক্তিগত যোগাযোগ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ইমেইলের দ্রুত প্রতিক্রিয়া দেওয়ার চাপ মনের ওপর স্থায়ী প্রভাব ফেলে। নোটিফিকেশনের কারণে মস্তিষ্ক প্রায় সবসময় সতর্ক অবস্থায় থাকে, যা মানসিক ক্লান্তি বাড়ায়।
একই সঙ্গে তথ্যের অতিরিক্ত প্রবাহও বড় সমস্যা হয়ে উঠেছে। প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ খবর, ভিডিও, পোস্ট ও বিজ্ঞাপন মানুষের সামনে আসে। এই অতিরিক্ত তথ্য গ্রহণের ফলে মস্তিষ্ক বিভ্রান্ত ও ক্লান্ত হয়ে পড়ে, জরুরি ও অপ্রয়োজনীয় তথ্য আলাদা করতে গিয়েই শক্তি ক্ষয় হয়।
দীর্ঘ সময় স্ক্রিন ব্যবহারের ফলে চোখে চাপ, মাথাব্যথা, ঘাড় ও কাঁধে ব্যথার মতো সমস্যা বাড়ছে। শারীরিক নড়াচড়া কমে যাওয়ায় রক্তসঞ্চালনও ধীর হয়, যা ক্লান্তি আরও বাড়িয়ে দেয়।
ডিজিটাল ব্যস্ততা থাকলেও প্রকৃত বিশ্রামের অভাব দেখা দেয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সময় কাটানো মানসিক বিশ্রাম দেয় না; বরং অন্যের জীবনের সঙ্গে নিজের তুলনা করতে গিয়ে হতাশা বাড়ে।
প্রযুক্তির কারণে কাজ ও ব্যক্তিগত জীবনের সীমারেখাও ঝাপসা হয়ে গেছে। বাসায় বসেও অফিসের কাজ করা বা ছুটির দিনেও যোগাযোগ চালু থাকার ফলে ভারসাম্য নষ্ট হয়।
এ ছাড়া অনলাইনে নিজেকে নিখুঁতভাবে উপস্থাপনের চাপও অনেকের ওপর প্রভাব ফেলে। সুন্দর ছবি, আকর্ষণীয় পোস্ট ও সক্রিয় উপস্থিতির প্রতিযোগিতা মানসিক শক্তি কমিয়ে দেয়।
ঘুমের ওপরও প্রযুক্তির প্রভাব স্পষ্ট। রাতে ঘুমানোর আগে স্ক্রিন ব্যবহার করলে নীল আলো ঘুমের স্বাভাবিক ছন্দ নষ্ট করে, ফলে পর্যাপ্ত বিশ্রাম হয় না এবং পরদিন ক্লান্তি থেকে যায়।
তবে কিছু অভ্যাস পরিবর্তনের মাধ্যমে এই ক্লান্তি কমানো সম্ভব। নির্দিষ্ট সময় পর পর স্ক্রিন থেকে বিরতি নেওয়া, অপ্রয়োজনীয় নোটিফিকেশন বন্ধ রাখা এবং প্রযুক্তি ছাড়া সময় কাটানো উপকারী হতে পারে।
সিএ/এমআর


