ডিজিটাল যুগে মোবাইল ও স্ক্রিননির্ভরতার কারণে শিশুদের বই পড়ার অভ্যাস কমে যাচ্ছে। একসময় যেখানে গল্পের বই ও রূপকথা ছিল শিশুদের প্রধান বিনোদন, সেখানে এখন জায়গা নিয়েছে কার্টুন ও ভিডিও কনটেন্ট। ফলে বইয়ের সঙ্গে শিশুদের দূরত্ব বাড়ছে, যা তাদের মানসিক বিকাশে প্রভাব ফেলতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ছোটবেলা থেকেই বইয়ের সঙ্গে পরিচয় করানো গেলে তা আজীবনের অভ্যাসে পরিণত হয়। এজন্য শিশুকে জোর করে নয়, বরং আনন্দের মাধ্যমে বইয়ের প্রতি আগ্রহ তৈরি করা জরুরি। রঙিন ছবি, সহজ ভাষা ও আকর্ষণীয় গল্পের বই শিশুদের কাছে বেশি গ্রহণযোগ্য হয়ে ওঠে।
পরিবারের পরিবেশও এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বাবা-মা যদি নিয়মিত বই পড়েন, তবে শিশুরাও সেটিকে স্বাভাবিক অভ্যাস হিসেবে গ্রহণ করে। প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময় বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলা গেলে শিশুর মনোযোগ ও আগ্রহ বাড়ে।
এছাড়া, শিশুকে নিজের পছন্দ অনুযায়ী বই বেছে নেওয়ার সুযোগ দিলে তার আগ্রহ আরও বৃদ্ধি পায়। গল্প শোনানো থেকে ধীরে ধীরে নিজে পড়ার দিকে নিয়ে যাওয়াও কার্যকর একটি পদ্ধতি। একই সঙ্গে মোবাইল বা ট্যাব ব্যবহারের সময় নিয়ন্ত্রণ করে বইয়ের প্রতি আকর্ষণ বাড়ানো প্রয়োজন।
মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, শিশুর বই পড়ার অভ্যাস তৈরি করতে ধৈর্য, সময় ও উৎসাহ অপরিহার্য। সঠিক পরিবেশ ও দিকনির্দেশনা পেলে বই পড়া শিশুর সৃজনশীলতা, কল্পনাশক্তি ও চিন্তাশক্তি বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
সিএ/এমআর


