ঈদ উৎসবের আনন্দ ও ব্যস্ততার মাঝেই অনেকের শরীরে হঠাৎ রক্তচাপ বেড়ে যাওয়ার মতো অস্বস্তিকর পরিস্থিতি দেখা দিতে পারে। এ সময় অনেকেই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন, তবে সময়মতো সঠিক পদক্ষেপ নিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
সাধারণত উচ্চ রক্তচাপের তেমন স্পষ্ট লক্ষণ দেখা যায় না। তবে কখনো বুক ধড়ফড় করা, মাথা ঘোরা, মাথাব্যথা কিংবা বমিভাবের মতো উপসর্গ প্রকাশ পেতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে এসব লক্ষণ গুরুতর সমস্যার পূর্বাভাস হিসেবেও দেখা দিতে পারে।
চিকিৎসকদের মতে, হঠাৎ রক্তচাপ বেড়ে যাওয়া সবসময় বড় ঝুঁকির ইঙ্গিত নয়, তবে বিষয়টি অবহেলা করা উচিত নয়। কারণ অতিরিক্ত রক্তচাপ হৃদরোগ, স্ট্রোক বা কিডনি জটিলতার ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
রক্তচাপ অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেলে সাধারণত এটিকে হাইপারটেনসিভ এমার্জেন্সি ও হাইপারটেনসিভ আর্জেন্সি—এই দুই ভাগে বিবেচনা করা হয়। হাইপারটেনসিভ এমার্জেন্সিতে শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে এবং দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া জরুরি। অন্যদিকে হাইপারটেনসিভ আর্জেন্সিতে তাৎক্ষণিক অঙ্গহানি না হলেও রক্তচাপ বেশি থাকে, যা ধীরে ধীরে ওষুধের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।
এমন পরিস্থিতিতে প্রথমেই নিজেকে শান্ত রাখা জরুরি। নিরিবিলি পরিবেশে বসে ধীরে ধীরে গভীর শ্বাস নেওয়ার মাধ্যমে শরীর ও মনকে স্বাভাবিক করার চেষ্টা করতে হবে। এরপর স্বাভাবিক তাপমাত্রার এক গ্লাস পানি পান করা উপকারী হতে পারে।
শরীর গরম অনুভব করলে মাথা বা ঘাড়ের পেছনে ঠান্ডা সেঁক দেওয়া যেতে পারে। পাশাপাশি নিয়মিত রক্তচাপ মাপা জরুরি। প্রতি ১৫ থেকে ২০ মিনিট পরপর রক্তচাপ পরীক্ষা করে দেখতে হবে তা কমছে কি না।
যদি রক্তচাপ ১৮০ বা ১২০-এর বেশি হয় কিংবা বুকব্যথা, শ্বাসকষ্ট বা দৃষ্টিজনিত সমস্যা দেখা দেয়, তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া প্রয়োজন।
এ ক্ষেত্রে ঘরোয়া টোটকার ওপর নির্ভর না করাই ভালো। তেঁতুলের শরবত বা অন্য কোনো উপায়ে রক্তচাপ কমে—এমন বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনো ওষুধ গ্রহণ করাও ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
যাদের আগে থেকেই উচ্চ রক্তচাপ রয়েছে, তাদের জন্য বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ। ঈদের আনন্দের মধ্যেও স্বাস্থ্য সচেতন থাকা জরুরি, যাতে এ ধরনের পরিস্থিতি সহজেই সামাল দেওয়া যায়।
সিএ/এমআর


