বাংলাদেশে কিডনি রোগ একটি বড় জনস্বাস্থ্য সমস্যায় পরিণত হয়েছে। গবেষণা অনুযায়ী, দেশের প্রাপ্তবয়স্ক জনগোষ্ঠীর প্রায় ১৬ থেকে ২২ শতাংশ মানুষ কোনো না কোনো মাত্রার দীর্ঘমেয়াদি কিডনি রোগে আক্রান্ত, যাদের একটি বড় অংশই বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন।
কিডনির রোগকে নীরব ঘাতক বলা হয়, কারণ প্রাথমিক পর্যায়ে সাধারণত কোনো লক্ষণ দেখা যায় না। ফলে রোগটি ধরা পড়ে দেরিতে, যখন কিডনি অনেকাংশেই অকার্যকর হয়ে পড়ে। তখন রোগীর জন্য ডায়ালাইসিস বা কিডনি প্রতিস্থাপন ছাড়া অন্য কোনো পথ থাকে না।
বর্তমানে দেশে কয়েক দশ হাজার মানুষের ডায়ালাইসিস প্রয়োজন হলেও নিয়মিত চিকিৎসার সুযোগ পাচ্ছেন অল্পসংখ্যক রোগী। এতে করে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে।
কিডনি রোগ বৃদ্ধির পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপকে চিহ্নিত করা হচ্ছে। দেশে বিপুলসংখ্যক মানুষ এসব রোগে আক্রান্ত হলেও অনেকে তা জানেন না। ফলে দীর্ঘমেয়াদে কিডনির ওপর মারাত্মক প্রভাব পড়ে।
তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, আগেভাগে শনাক্ত করা গেলে কিডনি রোগ অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। রক্তচাপ পরীক্ষা, রক্তে শর্করা ও ক্রিয়েটিনিন পরিমাপ এবং প্রস্রাব পরীক্ষা—এই সাধারণ পরীক্ষাগুলোর মাধ্যমে ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের চিহ্নিত করা যায়।
প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার আওতায় নিয়মিত স্ক্রিনিং চালু করা গেলে অনেক মানুষকে জটিল অবস্থায় যাওয়ার আগে চিকিৎসার আওতায় আনা সম্ভব। একই সঙ্গে সচেতনতা বৃদ্ধি ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন কিডনি সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
সিএ/এমআর


