ঈদের ছুটিতে অনেকেই শহরের কোলাহল থেকে দূরে গিয়ে শান্ত পরিবেশে সময় কাটাতে চান। দূরের পাহাড় বা সমুদ্রের পরিবর্তে ঢাকার কাছেই পদ্মা নদীর বুকে হাউসবোট ভ্রমণ এখন অনেকের কাছে আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে। নদীর ঢেউ, বিস্তীর্ণ আকাশ, চরজীবনের স্পর্শ এবং পদ্মা সেতু দর্শনের সুযোগ মিলিয়ে এটি হতে পারে এক দিনের ভিন্নধর্মী ভ্রমণ অভিজ্ঞতা।
বাংলাদেশে হাউসবোট পর্যটন নতুন নয়। সুনামগঞ্জের টাঙ্গুয়ার হাওরে কয়েক বছর ধরেই বিলাসবহুল হাউসবোট ভ্রমণ জনপ্রিয়। বর্ষা মৌসুমে হাওর অঞ্চলে পর্যটনের ভিড় বাড়লেও পানি কমে গেলে এসব নৌযানের অনেকগুলোই পদ্মা নদীতে চলে আসে। সাধারণত শীতকাল থেকে গ্রীষ্মের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত পদ্মা নদীতে এসব হাউসবোট পর্যটকদের সেবা দিয়ে থাকে।
এই সময় পদ্মার পানি তুলনামূলক শান্ত থাকে এবং নদীর বুকে পলি জমে কোথাও কোথাও নতুন চর জেগে ওঠে। এসব চরে পাখপাখালির সমাগমও দেখা যায়। ফলে প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য এই ভ্রমণ আরও আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে।
চার বছর আগে যেখানে হাতে গোনা কয়েকটি হাউসবোট ছিল, বর্তমানে পদ্মা নদীতে প্রায় ২৫টির মতো নৌযান এই পর্যটন সেবায় যুক্ত হয়েছে। এসব হাউসবোটের কিছুতে শীতাতপনিয়ন্ত্রিত কক্ষসহ বিভিন্ন সুবিধাও রয়েছে।
মুন্সিগঞ্জের লৌহজং বাজার, বেজগাঁও, শিমুলিয়া ঘাট এবং দোহারের নারিশাবাজার ঘাট থেকে সাধারণত এসব হাউসবোট যাত্রা শুরু করে। আগে কিছু হাউসবোটে রাত্রিযাপনের ব্যবস্থাও থাকলেও বর্তমানে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দিনব্যাপী প্যাকেজ চালু রয়েছে। যাত্রীদের যে ঘাট থেকে তোলা হয়, দিন শেষে আবার একই ঘাটে ফিরিয়ে আনা হয়।
হাউসবোট ভ্রমণের দিনটি সাধারণত সকালের নাশতা দিয়ে শুরু হয়। এরপর দুপুরের খাবার, বিকেলে হালকা নাশতা এবং সন্ধ্যার দিকে যাত্রীদের চাহিদা অনুযায়ী বারবিকিউর আয়োজন করা হয়। ঈদের সময় উৎসবের আবহ তৈরি করতে মেন্যুতেও বিশেষ কিছু খাবার যুক্ত করা হয়।
পদ্মা সেতুর নিচ দিয়ে যাওয়ার মুহূর্তটি এই ভ্রমণের অন্যতম আকর্ষণ বলে জানিয়েছেন উদ্যোক্তারা। পাশাপাশি পদ্মা নদীর বিখ্যাত ইলিশ মাছের স্বাদ নেওয়ার সুযোগও অনেক পর্যটকের কাছে বিশেষ আকর্ষণ হয়ে ওঠে।
ভ্রমণের সময় পদ্মার বিভিন্ন চরে নোঙর করে বিভিন্ন ধরনের বিনোদনমূলক আয়োজন করা হয়। সেখানে ক্রিকেট, ফুটবল, ভলিবল, হাঁড়ি ভাঙা, বালিশ নিক্ষেপ বা দৌড় প্রতিযোগিতার মতো গ্রামীণ খেলাধুলার আয়োজন থাকে। পরিবার বা বন্ধুদের দল নিয়ে গেলে এসব আয়োজন আরও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।
অনেকে নদীতে সাঁতার কাটা বা গোসলের অভিজ্ঞতাও উপভোগ করেন। পাশাপাশি নৌপথে চলার সময় জেলেদের ইলিশ ধরার দৃশ্যও কাছ থেকে দেখা যায়, যা পর্যটকদের কাছে আলাদা আকর্ষণ সৃষ্টি করে।
হাউসবোটে পদ্মা ভ্রমণের খরচ তুলনামূলকভাবে নাগালের মধ্যেই। সাধারণত জনপ্রতি প্রায় দুই হাজার টাকা থেকে শুরু হয়ে সুবিধাভেদে সাড়ে চার হাজার টাকা পর্যন্ত হতে পারে। কেবিনের ধরন, শীতাতপনিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, ব্যক্তিগত ব্যালকনি বা অতিরিক্ত সুবিধার ওপর নির্ভর করে প্যাকেজের মূল্য নির্ধারণ করা হয়।
ভ্রমণে যাওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট হাউসবোটের সেবা, নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও আগের পর্যটকদের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে খোঁজ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
সিএ/এমআর


