ত্বকের উজ্জ্বলতা ধরে রাখতে অনেকেই দামি প্রসাধনী ব্যবহার করেন। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, ত্বকের আসল সুস্থতা নির্ভর করে শরীরের ভেতরের স্বাস্থ্যের ওপর। শরীর পর্যাপ্ত পুষ্টি পাচ্ছে কিনা, হজম ঠিকমতো হচ্ছে কিনা এবং শরীরে আর্দ্রতা বজায় থাকছে কিনা—এসব বিষয় সরাসরি ত্বকের ওপর প্রভাব ফেলে।
ব্যস্ত জীবনে সব সময় পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ করা অনেকের পক্ষে কঠিন হয়ে পড়ে। তাই দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় সহজ কিছু প্রাকৃতিক পানীয় যুক্ত করলে শরীরের ভেতরের সুস্থতা বজায় রাখা সম্ভব। বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত এসব পানীয় পান করলে ত্বকের সতেজতা ও উজ্জ্বলতা ধীরে ধীরে বাড়তে পারে।
প্রথমেই রয়েছে লেবু ও মধুর শরবত। ঈষদুষ্ণ এক গ্লাস পানিতে এক টেবিলচামচ মধু এবং অর্ধেক পাতিলেবুর রস মিশিয়ে সহজেই এটি তৈরি করা যায়। প্রতিদিন সকালে খালি পেটে পান করলে শরীর উপকার পেতে পারে। লেবুতে থাকা ভিটামিন সি কোলাজেন উৎপাদনে সহায়তা করে, যা ত্বককে কোমল ও মসৃণ রাখতে সাহায্য করে। অন্যদিকে মধুতে থাকা প্রাকৃতিক জীবাণুনাশক উপাদান হজম প্রক্রিয়াকে সহায়তা করে।
বিট ও গাজরের শরবতও ত্বকের জন্য উপকারী একটি পানীয়। অল্প পানির সঙ্গে বিট ও গাজরের টুকরো ব্লেন্ড করে এতে চাইলে সামান্য আদা যোগ করা যায়। বিট রক্ত সঞ্চালন উন্নত করতে সাহায্য করে এবং গাজরে থাকা বিটা-ক্যারোটিন শরীরে ভিটামিন এ তৈরিতে ভূমিকা রাখে, যা ত্বকের দাগছোপ কমাতে সহায়ক।
ডাবের পানি শরীরের আর্দ্রতা বজায় রাখতে অত্যন্ত কার্যকর। এতে পর্যাপ্ত পটাশিয়াম ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে। গরমের সময় কিংবা ব্যায়ামের আগে এটি পান করলে শরীর সতেজ থাকে এবং ত্বকের স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা বজায় রাখতে সহায়তা করে।
আমলকির শরবতও ত্বকের যত্নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এক গ্লাস পানিতে দুই চামচ আমলকির রস ও সামান্য মধু মিশিয়ে এটি তৈরি করা যায়। আমলকিতে থাকা ভিটামিন সি দূষণ ও মানসিক চাপের কারণে ত্বকে যে ক্ষতি হয় তা কমাতে সহায়তা করে এবং চুলের স্বাস্থ্যও ভালো রাখতে সাহায্য করে।
এ ছাড়া হলুদ মেশানো গরম দুধ একটি ঐতিহ্যবাহী পানীয়। এক গ্লাস ঈষদুষ্ণ দুধে সামান্য হলুদ গুঁড়া মিশিয়ে রাতে ঘুমানোর আগে পান করলে শরীরের ভেতরের প্রদাহ কমাতে সহায়তা করতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত এসব প্রাকৃতিক পানীয় গ্রহণ করলে ধীরে ধীরে ত্বকের স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা ফিরে আসতে পারে।
সিএ/এমআর


