এলপিজি বা রান্নার গ্যাসের সংকট দেখা দেওয়ায় ভারতের কয়েকটি বড় শহরে হোটেল, রেস্তোরাঁ এবং মেস পরিষেবায় চাপ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে বেঙ্গালুরুর মতো তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর শহরে হাজার হাজার শিক্ষার্থী, পিজিতে থাকা তরুণ-তরুণী এবং কর্মজীবী মানুষ প্রতিদিনের খাবারের জন্য ছোট হোটেল বা মেসের ওপর নির্ভর করেন। গ্যাস সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় তাদের দৈনন্দিন খাবারের ব্যবস্থাপনায় নতুন করে ভাবতে হচ্ছে।
খবরে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি এবং মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার কারণে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় প্রভাব পড়েছে। ভারত যেহেতু এলপিজি আমদানিনির্ভর দেশ, তাই সরবরাহে সামান্য সমস্যা তৈরি হলেই বাজারে তার দ্রুত প্রভাব দেখা যায়। বর্তমানে গৃহস্থালির রান্নার গ্যাস সরবরাহকে অগ্রাধিকার দেওয়ায় বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের ঘাটতি আরও প্রকট হয়ে উঠেছে। ফলে হোটেল, রেস্তোরাঁ, অফিস ক্যান্টিন এবং মেস পরিচালনায় সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে সংশ্লিষ্টদের।
অনেক হোটেল মালিক জানিয়েছেন, বাণিজ্যিক গ্যাসের ঘাটতি দীর্ঘস্থায়ী হলে রান্না চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়বে। এ কারণে কোথাও পরিষেবা সীমিত করা হচ্ছে, আবার কোথাও সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার কথাও ভাবা হচ্ছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে শিক্ষার্থী ও কর্মজীবী মানুষের ওপর, যারা প্রতিদিনের খাবারের জন্য এসব প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভরশীল।
এই পরিস্থিতিতে অনেক মেস তাদের দৈনন্দিন খাবারের তালিকাও ছোট করতে বাধ্য হয়েছে। আগে যেখানে দুপুর বা রাতের খাবারে ভাত ও ডালের সঙ্গে দুই থেকে তিন ধরনের পদ থাকত, এখন অনেক জায়গায় সেই সংখ্যা কমিয়ে আনা হয়েছে।
এদিকে পুষ্টিবিদদের মতে, সীমিত গ্যাস ব্যবহার করেও স্বাস্থ্যকর খাবারের পরিকল্পনা করা সম্ভব। সকালের নাশতায় দ্রুত তৈরি করা যায় এমন খাবার যেমন উপমা বা সবজি পোহা রাখা যেতে পারে। সুজি বা চিঁড়ে দিয়ে তৈরি এই খাবারের সঙ্গে গাজর, মটরশুঁটি, পেঁয়াজ বা টমেটো যোগ করলে শরীর প্রয়োজনীয় ফাইবার ও ভিটামিন পায়। সেদ্ধ ডিম ও টোস্টও একটি সহজ বিকল্প, যা কম সময়ে প্রস্তুত করা যায় এবং প্রোটিনের ভালো উৎস। টক দই ও ফলের সমন্বয়েও একটি পুষ্টিকর সকালের খাবার তৈরি করা সম্ভব।
দুপুরের খাবারে সাধারণ ভাত, ডাল ও একটি সবজি রাখা যেতে পারে, যা সহজে রান্না করা যায় এবং পুষ্টিগুণ বজায় রাখে। লাউ, ঝিঙে, বাঁধাকপি কিংবা বিনস-গাজরের মতো দ্রুত রান্না হওয়া সবজি এতে ব্যবহার করা যায়। বিকল্প হিসেবে খিচুড়িও একটি ভালো খাবার, যেখানে চাল, ডাল ও সবজি একসঙ্গে রান্না হওয়ায় গ্যাস কম লাগে। সঙ্গে শসা, গাজর ও টমেটো দিয়ে সালাদ এবং দই রাখলে খাবার আরও স্বাস্থ্যকর হয়।
রাতের খাবারে হালকা মেনু রাখাই ভালো বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। রুটি ও সবজি, ডাল বা সবজির স্যুপ কিংবা ডিম ভুজিয়া বা সেদ্ধ ডিম সহজে প্রস্তুত করা যায় এবং শরীরের জন্যও উপকারী।
সপ্তাহে অন্তত একদিন মাছ বা মাংসের পদ রাখার পরামর্শ দেন পুষ্টিবিদরা। সাধারণত চিকেন কারি বা ছোট মাছের ঝোল তুলনামূলক কম সময়ে রান্না করা যায়। এসব খাবারে উচ্চমানের প্রোটিন, আয়রন ও ভিটামিন বি১২ থাকে, যা শরীরের শক্তি বাড়াতে এবং পেশি সুস্থ রাখতে সহায়ক।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিকল্পনা করে মেনু সাজালে গ্যাসের সংকটের মধ্যেও মেস কিংবা বাড়ির রান্নাঘরে সাশ্রয়ীভাবে স্বাস্থ্যকর খাবার প্রস্তুত করা সম্ভব।
সিএ/এমআর


