খাদ্যাভ্যাস নিয়ে আলোচনায় কার্বোহাইড্রেট একটি বহুল বিতর্কিত বিষয়। অনেকেই মনে করেন কার্বোহাইড্রেট শরীরের জন্য ক্ষতিকর এবং ওজন বৃদ্ধির অন্যতম কারণ। আবার অন্যদিকে বিশেষজ্ঞরা এটিকে মানবদেহের প্রধান শক্তির উৎস হিসেবে বিবেচনা করেন। ফলে কার্বোহাইড্রেট নিয়ে বিভিন্ন মতামত ও বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।
পুষ্টিবিদদের মতে, কার্বোহাইড্রেট স্বভাবতই ক্ষতিকর নয়। বরং এটি শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় শক্তির অন্যতম প্রধান উৎস। শরীরে প্রবেশ করার পর কার্বোহাইড্রেট গ্লুকোজে রূপান্তরিত হয়, যা মস্তিষ্ক, পেশী এবং স্নায়ুতন্ত্রের কার্যক্রম পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেন, খাদ্যতালিকা থেকে সম্পূর্ণভাবে কার্বোহাইড্রেট বাদ দিলে শরীরে ক্লান্তি, দুর্বলতা এবং শক্তির ঘাটতি দেখা দিতে পারে। কারণ তখন শরীর পর্যাপ্ত জ্বালানি পায় না। এ কারণে পরিশোধিত চিনি বা অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবারের পরিবর্তে স্বাস্থ্যকর কার্বোহাইড্রেটের উৎস বেছে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।
পুষ্টিগুণের দিক থেকে সব ধরনের কার্বোহাইড্রেট সমান নয়। সম্পূর্ণ শস্য, ফলমূল, শাকসবজি, ডাল ও কম প্রক্রিয়াজাত শর্করা সমৃদ্ধ খাবারে ফাইবার, ভিটামিন ও খনিজ উপাদান থাকে, যা শরীরের জন্য উপকারী। অন্যদিকে পরিশোধিত কার্বোহাইড্রেট বা অতিরিক্ত চিনি মূলত খালি ক্যালোরি সরবরাহ করে।
দীর্ঘমেয়াদি বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, যারা নিয়মিত পুষ্টিকর কার্বোহাইড্রেটসমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ করেন, তাদের স্বাস্থ্যগত ফলাফল সাধারণত ভালো হয়। বিপরীতে যারা বেশি পরিমাণে পরিশোধিত কার্বোহাইড্রেট বা অতিরিক্ত চিনিযুক্ত খাবারের ওপর নির্ভর করেন, তাদের স্বাস্থ্যঝুঁকি তুলনামূলক বেশি থাকে।
খাবার গ্রহণের সময়ও এখানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। মানবদেহের বিপাকক্রিয়া সারাদিন একই থাকে না। সকালে ও বিকেলের দিকে শরীর তুলনামূলকভাবে বেশি ইনসুলিন সংবেদনশীল থাকে, ফলে গ্লুকোজ সহজে প্রক্রিয়াজাত করতে পারে। সন্ধ্যা বা রাতের দিকে বিপাক ধীর হয়ে যাওয়ায় অতিরিক্ত কার্বোহাইড্রেট গ্রহণ করলে রক্তে শর্করার মাত্রা বৃদ্ধি এবং চর্বি জমার সম্ভাবনা বাড়তে পারে।
গবেষকদের মতে, দিনের শুরুতে কার্বোহাইড্রেটসমৃদ্ধ খাবার যেমন সকালের নাস্তা বা দুপুরের খাবার গ্রহণ করলে রক্তে শর্করার নিয়ন্ত্রণ ও ওজন ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক প্রভাব দেখা যেতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলেন, সুস্বাস্থ্যের জন্য সামগ্রিক খাদ্যাভ্যাসের মান, দৈনিক ক্যালোরির ভারসাম্য, নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম, পর্যাপ্ত ঘুম এবং ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য লক্ষ্য—এসব বিষয় সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। তাই সুষম খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখা এবং প্রোটিন ও স্বাস্থ্যকর চর্বির সঙ্গে কার্বোহাইড্রেটের ভারসাম্য রাখা প্রয়োজন।
সিএ/এমআর


