পবিত্র রমজান মাসে ঈদের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে কেনাকাটার ব্যস্ততা বাড়তে থাকে। তবে এই সময় মার্কেট ও শপিংমলগুলোতে যেমন ভিড় বেশি থাকে, তেমনি গরমের প্রভাবও থাকে উল্লেখযোগ্য। ফলে রোজা রেখে কেনাকাটা করতে গেলে অনেকেই দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়েন। তাই বিশেষজ্ঞরা কিছু বিষয় মেনে চলার পরামর্শ দিচ্ছেন।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, দীর্ঘ সময় গরম পরিবেশে অবস্থান করলে শরীর দ্রুত পানি ও শক্তি হারাতে পারে। আবার সেন্টার্স ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন জানিয়েছে, পানিশূন্যতা দেখা দিলে দুর্বলতা, মাথাব্যথা ও মনোযোগ কমে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। এ কারণে রোজা রেখে কেনাকাটা করতে গেলে কিছু কৌশল মেনে চলা জরুরি।
প্রথমত, কেনাকাটার আগে প্রয়োজনীয় জিনিসের তালিকা তৈরি করা গুরুত্বপূর্ণ। এতে অপ্রয়োজনীয়ভাবে বিভিন্ন দোকানে ঘোরাঘুরি কমে এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই প্রয়োজনীয় পণ্য সংগ্রহ করা সম্ভব হয়। এতে শারীরিক ক্লান্তিও কম হয়।
দ্বিতীয়ত, কেনাকাটার সময় বেছে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। দুপুরের তীব্র গরম এড়িয়ে বিকেলের দিকে বা ইফতারের পর কেনাকাটা করলে শরীরের ওপর চাপ তুলনামূলক কম পড়ে। তাপমাত্রা কম থাকলে পানিশূন্যতার ঝুঁকিও কমে।
এ ছাড়া ইফতার ও সেহরিতে পর্যাপ্ত পানি ও পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ করা প্রয়োজন। ডাবের পানি, লেবু-পানি, ফল এবং আঁশযুক্ত খাবার শরীরের পানির ভারসাম্য ধরে রাখতে সহায়তা করে। অতিরিক্ত ভাজাপোড়া বা মিষ্টি খাবার শরীরকে আরও ক্লান্ত করে তুলতে পারে।
কেনাকাটার সময় আরামদায়ক পোশাক ও জুতা পরাও গুরুত্বপূর্ণ। হালকা ও ঢিলেঢালা পোশাক এবং নরম সোলের জুতা শরীরকে তুলনামূলক স্বস্তি দেয়। গরমে গাঢ় রঙের বদলে হালকা রঙের পোশাক ব্যবহার করলে তাপ শোষণও কম হয়।
বিশেষজ্ঞরা আরও বলেন, কেনাকাটার সময় যদি মাথা ঘোরা, অতিরিক্ত দুর্বল লাগা বা চোখে ঝাপসা দেখার মতো উপসর্গ দেখা দেয়, তাহলে তা অবহেলা করা উচিত নয়। প্রয়োজনে কিছু সময় বিশ্রাম নেওয়া প্রয়োজন।
রমজানের সময় শরীর স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় ভিন্ন ছন্দে চলে। তাই ঈদের প্রস্তুতির ব্যস্ততার মধ্যেও নিজের শারীরিক সক্ষমতা ও স্বাস্থ্যগত বিষয়গুলোর দিকে খেয়াল রাখা জরুরি।
সিএ/এমআর


