সফল ও সুস্থ সম্পর্ক গড়ে তুলতে কেবল বুদ্ধিমত্তা বা আইকিউ যথেষ্ট নয়; এর পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে ইমোশনাল ইন্টেলিজেন্স বা ইকিউ। নিজের আবেগ বোঝা, তা নিয়ন্ত্রণ করা এবং অন্যের অনুভূতি উপলব্ধি করার ক্ষমতাই মূলত ইমোশনাল ইন্টেলিজেন্সের ভিত্তি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অনেক মানুষের আচরণে এমন কিছু লক্ষণ দেখা যায় যা কম ইকিউয়ের ইঙ্গিত দিতে পারে। এসব আচরণের মধ্যে রয়েছে সহজে রেগে যাওয়া, সমালোচনা মেনে নিতে না পারা কিংবা অন্যের অনুভূতি উপলব্ধি করতে ব্যর্থ হওয়া।
প্রথমত, কৌতূহলী মন না থাকা কম ইমোশনাল ও কগনিটিভ বিকাশের একটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ হতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, নতুন কিছু শেখার আগ্রহ কমে গেলে সৃজনশীলতাও কমে যেতে পারে। তবে হতাশা, ক্লান্তি বা অনুপ্রেরণার অভাবেও সাময়িকভাবে কৌতূহল কমে যেতে পারে।
দ্বিতীয়ত, ডানিং–ক্রুগার ইফেক্ট বা সবজান্তা ভাব। ১৯৯৯ সালে মনোবিজ্ঞানী ডেভিড ডানিং ও জাস্টিন ক্রুগার এই ধারণা তুলে ধরেন। কিছু মানুষ নিজেদের অন্যদের তুলনায় বেশি জ্ঞানী মনে করেন, ফলে তারা নিজের সীমাবদ্ধতা বুঝতে পারেন না এবং শেখার সুযোগও হারান।
তৃতীয় লক্ষণ হলো সাদা-কালো চিন্তা। উচ্চ কগনিটিভ ক্ষমতার মানুষ সাধারণত জটিল বিষয়কে বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে বিশ্লেষণ করতে পারেন। কিন্তু কম ইকিউয়ের মানুষ অনেক সময় বিষয়গুলোকে সরলভাবে একপাক্ষিকভাবে বিচার করেন।
চতুর্থত, হুট করে রেগে যাওয়া। আবেগের ওপর নিয়ন্ত্রণ না থাকলে মানুষ অনেক সময় আবেগপ্রবণ সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেন, যা পরবর্তীতে সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
পঞ্চমত, ভুল থেকে শিক্ষা না নেওয়া। গঠনমূলক সমালোচনা গ্রহণ করে নিজেকে সংশোধন করার ক্ষমতা আত্মউন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। এই ক্ষমতার অভাব থাকলে ব্যক্তিগত বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয়।
ষষ্ঠ লক্ষণ হলো সরল ব্যাখ্যায় বিশ্বাস করা। জটিল বিষয় নিয়ে ভাবতে অনীহা বা পর্যাপ্ত তথ্যের অভাব থাকলে মানুষ সহজ ব্যাখ্যায় বিশ্বাস করতে পারেন। এটিকে অনেক সময় কগনিটিভ লেজিনেস বলা হয়।
সপ্তমত, বেশি বলা এবং কম শোনা। গবেষণায় দেখা যায়, সক্রিয়ভাবে শোনার অভ্যাস বা অ্যাকটিভ লিসনিং উচ্চ ইমোশনাল ইন্টেলিজেন্সের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। তাই ভালো সম্পর্ক গড়ে তুলতে কথা বলার চেয়ে শোনার গুরুত্ব বেশি।
অষ্টমত, অন্যের সাফল্যে ঈর্ষান্বিত হওয়া। অন্যের মতামতকে সম্মান না করা বা অন্যের আনন্দে আনন্দিত হতে না পারাও কম ইকিউয়ের লক্ষণ হতে পারে।
তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেন, এসব লক্ষণ থাকলেই কাউকে কম বুদ্ধিমান বলা যায় না। কারণ আইকিউ ও ইকিউ আলাদা বিষয়। মানসিক চাপ, খারাপ পরিবেশ, বার্নআউট বা অন্যান্য পরিস্থিতির কারণেও মানুষের আচরণে সাময়িকভাবে এমন পরিবর্তন দেখা যেতে পারে।
সিএ/এমআর


