স্ট্রোককে দীর্ঘদিন বয়স্কদের রোগ বলে মনে করা হলেও সাম্প্রতিক চিকিৎসা পরিসংখ্যান সেই ধারণা বদলে দিয়েছে। চিকিৎসকদের উদ্বেগ বাড়িয়ে দিয়ে ৫০ বছরের কম বয়সী তরুণ-তরুণীদের মধ্যেও স্ট্রোকের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আধুনিক জীবনযাত্রার অনিয়ম ও খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তনই এর প্রধান কারণ।
চিকিৎসকেরা বলছেন, অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন, অতিরিক্ত ওজন, উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস এখন তরুণদের মধ্যে সাধারণ সমস্যা হয়ে উঠেছে। ফাস্ট ফুড ও প্রসেসড খাবারের প্রতি ঝোঁক এবং শারীরিক পরিশ্রমের অভাব হৃদ্যন্ত্র ও রক্তনালীর ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
ধূমপান, অতিরিক্ত মদ্যপান ও মাদকাসক্তিও তরুণ বয়সে স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। পাশাপাশি পেশাগত ও ব্যক্তিগত জীবনের মানসিক চাপ, উদ্বেগ ও বিষণ্ণতা রক্তচাপ বাড়িয়ে পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। কিছু ক্ষেত্রে জন্মগত হৃদ্রোগ কিংবা গর্ভাবস্থাজনিত জটিলতাও ঝুঁকির কারণ হতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, উন্নত রোগ নির্ণয় প্রযুক্তির সহজলভ্যতার কারণে এখন অনেক ক্ষুদ্র বা নীরব স্ট্রোকও শনাক্ত হচ্ছে, যা আগে ধরা পড়ত না। তবে সচেতন জীবনযাপনের মাধ্যমে এই ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।
ঝুঁকি কমাতে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী সুষম খাদ্য গ্রহণ, নিয়মিত ব্যায়াম, মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন, নেশা বর্জন এবং নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা অত্যন্ত জরুরি। শরীরের একপাশ অবশ হয়ে যাওয়া, কথা জড়িয়ে যাওয়া বা হঠাৎ তীব্র মাথাব্যথার মতো উপসর্গ দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সিএ/এমআর


