আয়ুর্বেদ শাস্ত্রে নিমকে প্রাকৃতিক মহৌষধ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিদিন সকালে খালি পেটে নির্দিষ্ট পরিমাণে কচি নিম পাতা খেলে শরীরের নানা উপকার হয়। আয়ুর্বেদিক বিশেষজ্ঞ গৌরব কুমার জানান, নিমে থাকা অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল, অ্যান্টিভাইরাল ও অ্যান্টিফাঙ্গাল উপাদান শরীরকে সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়তে সহায়তা করে। এ কারণেই গ্রামীণ এলাকায় এখনও ঋতু পরিবর্তনের সময় নিম পাতা চিবানোর প্রচলন দেখা যায়।
গৌরব কুমারের মতে, নিম পাতায় থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে কার্যকর ভূমিকা রাখে। নিয়মিত ও পরিমিত পরিমাণে নিম পাতা সেবন করলে ভাইরাল সংক্রমণের ঝুঁকি অনেকটাই কমে আসে।
নিমকে রক্ত পরিশোধক হিসেবেও বিবেচনা করা হয়। সকালে খালি পেটে ৪ থেকে ৫টি কচি নিম পাতা চিবিয়ে খেলে শরীর থেকে বিষাক্ত উপাদান বের হয়ে যেতে সহায়তা করে। এর ফলে ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ে এবং ব্রণ বা ফোঁড়ার মতো সমস্যার ঝুঁকি কমে।
এ ছাড়া নিম পাতা হজম প্রক্রিয়া উন্নত করতেও সহায়ক। এটি গ্যাস, বদহজম ও পেটের কৃমি দূর করতে ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে লিভারের কর্মক্ষমতা বাড়িয়ে ফ্যাটি লিভারের ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
তবে সতর্কতাও রয়েছে। নিম প্রাকৃতিক ঔষধি হলেও অতিরিক্ত সেবন ক্ষতিকর হতে পারে। গর্ভবতী নারী, শিশু এবং দীর্ঘমেয়াদি রোগে ভুগছেন এমন ব্যক্তিদের চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া নিম পাতা খাওয়া উচিত নয়। অতিরিক্ত তিক্ততার কারণে বেশি পরিমাণে সেবন করলে বমি ভাব বা পেটব্যথার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।
সিএ/এমআর


