ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের নবনির্বাচিত সদস্যদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে শেষ মুহূর্তে দৌড়ে ও লাফিয়ে প্রবেশ করেন বিএনপি থেকে নির্বাচিত চাঁদপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য ও শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তাঁর বয়স প্রায় ৬৮ বছর। এই দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং অনেকের মনে প্রশ্ন জাগে—এই বয়সে দৌড়ানো বা লাফ দেওয়া কি নিরাপদ, নাকি ঝুঁকিপূর্ণ।
দীর্ঘদিন ধরে ধারণা ছিল, বয়স বাড়লে দৌড়ঝাঁপ বা লাফ দেওয়ার মতো শারীরিক কর্মকাণ্ড এড়িয়ে চলাই ভালো। তবে সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে, সঠিক নিয়ম ও নিরাপদ পরিবেশে করলে এসব ব্যায়াম বয়স্কদের জন্য উপকারীও হতে পারে। জাম্পিং বা প্লাইওমেট্রিক এক্সারসাইজ বয়স্কদের হাড়, পেশি ও হৃদ্স্বাস্থ্যের ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলে বলে গবেষণায় উঠে এসেছে।
গবেষণায় দেখা গেছে, লাফ দেওয়ার সময় শরীরে যে চাপ তৈরি হয়, তা হাড়ের কোষকে উদ্দীপিত করে এবং অস্টিওপোরোসিসের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে। নিয়মিত জাম্পিং এক্সারসাইজ নিতম্বের হাড়ের ঘনত্ব বাড়াতে পারে, যা বৃদ্ধ বয়সে হাড় ভাঙার আশঙ্কা কমায়।
বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পেশিশক্তি কমে যাওয়ার প্রবণতা দেখা দেয়। লাফানো ও দ্রুত নড়াচড়ার ব্যায়াম পায়ের পেশিকে শক্তিশালী করে এবং ভারসাম্য উন্নত করে। এতে পড়ে যাওয়ার ঝুঁকিও কমে। একই সঙ্গে এ ধরনের ব্যায়াম হৃদ্যন্ত্রের কার্যকারিতা বাড়ায় এবং রক্তনালির স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সাহায্য করে।
তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, সবাই একভাবে লাফাতে পারবেন না। যাঁদের হাঁটু বা কোমরের তীব্র ব্যথা, অস্টিওআর্থ্রাইটিস, হৃদ্রোগ বা ভারসাম্যজনিত গুরুতর সমস্যা রয়েছে, তাঁদের চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া এ ধরনের ব্যায়াম করা উচিত নয়। ধীরে ধীরে হালকা ব্যায়াম দিয়ে শুরু করে শরীরের সক্ষমতা অনুযায়ী এগোনোই নিরাপদ।
এহছানুল হক মিলনের দৌড়ে ও লাফিয়ে চলার ঘটনাটি মূলত নিয়মিত নড়াচড়া ও শারীরিক সক্ষমতার গুরুত্বই তুলে ধরে। এটি মনে করিয়ে দেয়, বয়স শুধু একটি সংখ্যা; সক্রিয় জীবনযাপনই সুস্থ থাকার আসল চাবিকাঠি।
সিএ/এমআর


