সপ্তাহজুড়ে কাজের চাপের পর ছুটির দিনে বেলা করে ঘুমানো অনেকের কাছেই স্বস্তির মনে হয়। তবে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় এই অভ্যাসকে বলা হয় ‘সোশ্যাল জেট ল্যাগ’, যা শরীরের জন্য দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতির কারণ হতে পারে।
মানুষের শরীরে থাকা প্রাকৃতিক ঘড়ি বা সার্কাডিয়ান রিদম ঘুম ও জাগরণের সময় নিয়ন্ত্রণ করে। কাজের দিনে এক রুটিন আর ছুটির দিনে সম্পূর্ণ ভিন্ন রুটিন অনুসরণ করলে এই ঘড়ির ছন্দ নষ্ট হয়। এর ফলে শরীর এমন প্রতিক্রিয়া দেখায়, যেন কেউ ভিন্ন টাইম জোনে ভ্রমণ করেছে, যদিও বাস্তবে সে নিজের বিছানাতেই থাকে।
গবেষণায় দেখা গেছে, সোশ্যাল জেট ল্যাগ হৃদ্রোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে প্রায় ১১ শতাংশ। এ ছাড়া মেজাজ খিটখিটে হওয়া, অবসাদ, কাজে অনীহা, মনোযোগের ঘাটতি, টাইপ-২ ডায়াবেটিস ও স্থূলতার ঝুঁকিও বাড়ে। অনেক ক্ষেত্রে মানসিক অস্থিরতা ও ডিপ্রেশনের প্রবণতাও দেখা যায়।
এই সমস্যার লক্ষণ হিসেবে পর্যাপ্ত ঘুমের পরও সকালে উঠতে কষ্ট হওয়া, সপ্তাহের শুরুতে অতিরিক্ত ক্লান্তি, দিনের বেলা ঘুম ঘুম ভাব এবং রাতে সহজে ঘুম না আসার কথা উল্লেখ করেন বিশেষজ্ঞরা।
সমাধান হিসেবে ছুটির দিনসহ প্রতিদিন প্রায় একই সময়ে ঘুমানো ও জাগার অভ্যাস গড়ে তোলার পরামর্শ দেওয়া হয়। সকালের প্রাকৃতিক আলো শরীরের ঘড়িকে সঠিক ছন্দে ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করে। পাশাপাশি ঘুমানোর আগে গ্যাজেট ব্যবহার কমানো এবং দীর্ঘ দুপুরের ঘুম এড়িয়ে চলার কথাও বলা হয়।
সিএ/এমআর


