খিটখিটে মেজাজ বর্তমান জীবনে একটি সাধারণ সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। নানা মানসিক ও শারীরিক কারণে মানুষের মেজাজে হঠাৎ পরিবর্তন আসতে পারে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায়, কিছু মানসিক অসুস্থতা যেমন বাইপোলার মুড ডিসঅর্ডার, উদ্বেগ বা পোস্ট ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিসঅর্ডারে অতিরিক্ত রাগ, অস্থিরতা ও মনোযোগের অভাব দেখা দিতে পারে। আবার কিছু শারীরিক সমস্যাও মেজাজকে প্রভাবিত করে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হঠাৎ মেজাজের বড় পরিবর্তনের সঙ্গে অনিদ্রা, সন্দেহপ্রবণতা বা আচরণগত পরিবর্তন দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। তবে দৈনন্দিন জীবনে কিছু অভ্যাস গড়ে তুললে খিটখিটে মেজাজ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
বিরক্তিকর পরিস্থিতিতে শান্ত থাকার চেষ্টা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রাগের মুহূর্তে সিদ্ধান্ত নিলে বড় ভুল হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই নিজের প্রতিক্রিয়াকে সাময়িকভাবে নিয়ন্ত্রণ করাই প্রথম পদক্ষেপ।
রাগের মাথায় বলা কথাগুলো সব সময় গুরুত্ব দিয়ে নেওয়া ঠিক নয়। অনেক বিষয় এড়িয়ে চললে মানসিক চাপ কমে। সব কিছুকে গভীরভাবে নেওয়ার প্রবণতা কমাতে পারলে মেজাজও স্থিতিশীল থাকে।
পর্যাপ্ত ঘুম খিটখিটে মেজাজ দূর করার অন্যতম প্রধান উপায়। ঘুমের অভাব বিষণ্ণতা ও মানসিক অবসাদ বাড়িয়ে দেয়। প্রতিদিন অন্তত ৮ ঘণ্টা ঘুম মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য জরুরি।
সঠিক খাদ্যাভ্যাসও মেজাজ ভালো রাখতে সাহায্য করে। পুষ্টিকর খাবার, বিশেষ করে ভিটামিন বি সমৃদ্ধ খাদ্য মানসিক ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়ক।
নতুন মানুষের সঙ্গে মেলামেশা, প্রিয় কাজে সময় দেওয়া এবং নিজেকে আনন্দে রাখার চেষ্টা করলে মন ফুরফুরে থাকে। দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য নির্ধারণ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাও মানসিক স্থিরতা আনতে সহায়তা করে।
প্রকৃতির কাছাকাছি সময় কাটালে মানসিক চাপ কমে। খোলা পরিবেশে হাঁটা, সবুজের মাঝে সময় কাটানো কিংবা প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ মানুষের মনকে স্বাভাবিকভাবে শান্ত করে তোলে।
সিএ/এমআর


