অনেক সময় মানুষের খাবারের প্রতি ইচ্ছে হঠাৎ কমে যায় বা ক্ষুধা কম থাকে। মাঝেমধ্যে খাবার খেতে ইচ্ছে না হওয়া স্বাভাবিক হলেও কয়েকদিন ধরে টানা ক্ষুধাহীনতা শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। জীবনধারাবিষয়ক ওয়েবসাইট বোল্ডস্কাই-এর স্বাস্থ্য বিভাগের প্রতিবেদনে ক্ষুধা কমে যাওয়ার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ তুলে ধরা হয়েছে।
১. ইরিটেবল বাউয়েল সিনড্রোম (আইবিএস): এই রোগে পেট ফাঁপা, পেট ব্যথা, মলত্যাগের ধরন পরিবর্তন হয়। পেট ব্যথা বা ফাঁপা থাকলে খাবারের প্রতি আগ্রহ কমে যায়। দীর্ঘমেয়াদে ক্ষুধাহীনতা থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
২. লিভারের সমস্যা: অবসন্ন ভাব, বমি ও ডায়রিয়া লিভারের সমস্যার লক্ষণ। এমন ক্ষেত্রে ক্ষুধা কমে যায়। এই ধরনের লক্ষণ দেখা দিলে চেকআপ করানো উচিত।
৩. মুখে ফাঙ্গাস সংক্রমণ: এটি খাদ্যের স্বাদ নেওয়ার ক্ষমতা হ্রাস করে এবং খাওয়ার ইচ্ছা কমিয়ে দেয়। সংক্রমণ বাড়ার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
৪. ভিটামিন ও মিনারেলের ঘাটতি: বিশেষ করে আয়রন ও ভিটামিন বি১২-এর অভাব ক্ষুধার ওপর প্রভাব ফেলে।
৫. উদ্বেগ বা মানসিক চাপ: কোনো বিষয় নিয়ে উদ্বেগ বোধ করলে খাওয়ার ইচ্ছা অনেক সময় কমে যায়।
৬. অ্যানোরেজিয়া বা অত্যধিক ওজন কমে যাওয়া: ওজন হঠাৎ কমে যাওয়া বা ক্ষুধাহীনতা অ্যানোরেজিয়া রোগের লক্ষণ হতে পারে। দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
৭. বিষণ্ণতা: মানসিক অবসাদ বা বিষণ্ণতার কারণে অনেক সময় ক্ষুধা কমে যায়। এই ক্ষেত্রে প্রফেশনাল সাহায্য নেওয়া যায়।
৮. ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া: দীর্ঘমেয়াদী ওষুধ গ্রহণের কারণে ক্ষুধা কমে যেতে পারে। যেমন অ্যান্টিবায়োটিক, মরফিন, কেমোথেরাপি ইত্যাদি।
৯. ক্যান্সার: কিছু ধরনের ক্যান্সারে খাবারের স্বাদ কমে যায়, ফলে খাওয়ার ইচ্ছা কমে আসে। পাকস্থলি, কোলন, প্যানক্রিয়াস, ওভারি ক্যান্সারে এটি বেশি দেখা যায়।
১০. প্রবীণ বয়স ও ক্রনিক রোগ: ক্রনিক-অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ (সিওপিডি) বা আলঝাইমার রোগে খাবারের ধরন পরিবর্তিত হয়। ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সে ক্ষুধাহীনতা থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
সিএ/এমআর


