অনেকেই মনে করেন, ঘুমের সময় নাক ডাকা খুবই স্বাভাবিক একটি বিষয়। কাজের চাপ, অতিরিক্ত ক্লান্তি কিংবা গভীর ঘুমের কারণে নাক ডাকা হতে পারে—এমন ধারণা সমাজে প্রচলিত। কিন্তু চিকিৎসকদের মতে, এই অভ্যাস যদি প্রতিদিন রাতে ঘটে, তাহলে বিষয়টিকে মোটেও হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়। নিয়মিত নাক ডাকা হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বাড়াতে পারে এবং ২০-৩০ বছর বয়সী তরুণরাও এ ঝুঁকির বাইরে নয়।
চিকিৎসকদের ব্যাখ্যায়, ঘুমের সময় নাক ডাকা মানে শ্বাস নেওয়ার পথে বাধা তৈরি হওয়া। নাক বা গলার ভেতরের রাস্তা আংশিকভাবে বন্ধ হয়ে গেলে বাতাস চলাচলে সমস্যা হয় এবং সেই কারণেই শব্দ তৈরি হয়। এতে শরীরে প্রয়োজনীয় অক্সিজেন ঠিকভাবে পৌঁছাতে পারে না। ফলে হৃদযন্ত্রকে বেশি জোরে কাজ করতে হয় এবং ধীরে ধীরে রক্তচাপও বাড়তে থাকে।
এই অবস্থা যদি নিয়মিত চলতে থাকে, তাহলে হৃদযন্ত্রের ওপর দীর্ঘমেয়াদি চাপ সৃষ্টি হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, অনেক তরুণ নিজেদের সুস্থ ও ফিট মনে করেন, নিয়মিত ব্যায়াম করেন এবং বাইরে থেকে সুস্থ দেখান। তাই তাঁরা ভাবেন, হৃদরোগ তাঁদের ক্ষেত্রে হওয়ার সম্ভাবনা কম। কিন্তু নিয়মিত নাক ডাকার কারণে শরীরের ভেতরে যে ক্ষতি হয়, তা অনেক সময় বোঝা যায় না। বছরের পর বছর এই সমস্যা চললে ভবিষ্যতে হার্ট অ্যাটাক বা উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
চিকিৎসকরা আরও জানান, নাক ডাকা অনেক সময় স্লিপ অ্যাপনিয়া নামের একটি ঘুমজনিত সমস্যার লক্ষণ হতে পারে। এই সমস্যায় ঘুমের মধ্যে কয়েক সেকেন্ডের জন্য শ্বাস বন্ধ হয়ে যায় এবং আবার স্বাভাবিক হয়। এতে শরীর বারবার অক্সিজেনের ঘাটতির মুখে পড়ে এবং হৃদযন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা বাড়ে।
তবে সব নাক ডাকাই যে বিপজ্জনক, তা নয়। কিন্তু যদি নাক ডাকার সঙ্গে রাতে শ্বাস আটকে যাওয়ার অনুভূতি, ঘনঘন ঘুম ভেঙে যাওয়া, সকালে মাথাব্যথা কিংবা সারাদিন ক্লান্তি থাকে, তাহলে সতর্ক হওয়া জরুরি। নিয়মিত নাক ডাকার সমস্যা থাকলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। প্রয়োজনে ঘুমের পরীক্ষা করানো যেতে পারে। পাশাপাশি চিৎ হয়ে না শুয়ে কাত হয়ে ঘুমানো, ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং ধূমপান এড়িয়ে চললেও উপকার পাওয়া যায়।
সিএ/এমআর


