অটিজমসহ বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতায় ভোগা শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে সাঁতারের ইতিবাচক ভূমিকা নতুন করে আলোচনায় এসেছে। সাম্প্রতিক এক গবেষণার তথ্য জানার পর সার্বিয়ার রাজধানী বেলগ্রেডে একটি ক্রীড়া একাডেমি প্রতিবন্ধী শিশুদের বিনামূল্যে সাঁতার শেখানোর উদ্যোগ নিয়েছে। এতে অভিভাবক ও বিশেষজ্ঞদের মধ্যেও আশাবাদ তৈরি হয়েছে।
ডয়চে ভেলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাঁতার প্রশিক্ষণ প্রতিবন্ধী শিশুদের সামগ্রিক স্বাস্থ্য উন্নয়নের পাশাপাশি সামাজিক ও মানসিক বিকাশেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। নিয়মিত অনুশীলনের মাধ্যমে তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়ে এবং দৈনন্দিন চলাফেরায় দক্ষতা উন্নত হয়।
বেলগ্রেডে অবস্থিত সুইম্বো স্পোর্টস একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা বোয়ান পোচুচা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে এই প্রশিক্ষণ পরিচালনা করছেন। তার লক্ষ্য হলো প্রতিবন্ধী শিশুদের স্বাস্থ্য ও মনোসামাজিক দক্ষতা বাড়ানো। তিনি বলেন, শিশুদের অগ্রগতি দেখাই তার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।
বোয়ান পোচুচা বলেন, এটা শুধু আমরা তাদের কী শেখাই তা নয়; আমরাও তাদের কাছ থেকে অনেক কিছু শিখি। কাজটা পারস্পরিক। আমাদের সবারই জীবনে অনেক সমস্যা আছে, কিন্তু যখন আমি এখানে পুলে আসি এবং এই শিশুদের কাছ থেকে ভালোবাসা পাই … এর কোনো তুলনা হয় না। আমরা সত্যিই তাদের কাছ থেকেও অনেক কিছু পাই।
তিনি আরও জানান, অভিভাবকরাও প্রশিক্ষণে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন এবং নিয়মিত উপস্থিত থাকেন, যা শিশুদের জন্য বড় ধরনের মানসিক সমর্থন হিসেবে কাজ করে।
অভিভাবক জোভান সিরকোভিচ ডয়চে ভেলেকে বলেন, আমার মেয়ে সত্যিই এটি উপভোগ করে — শুধু জলের মধ্যে দাপাদাপিই নয়, যা সত্যিই তাকে খুব আকর্ষণ করে; প্রশিক্ষণের আগে এবং পরে ড্রেসিং রুমে চমৎকার সামাজিক মিথস্ক্রিয়াও উপভোগ করে সে। তাকে সাহায্য করার জন্য আমরা যেসব কাজ করি তার মধ্যে এটি তার অনেক প্রিয় —আর আমারও।
সার্বিয়ার অটিজম বিশেষজ্ঞ নেনাদ গ্লাম্বিচ জানান, গবেষণায় দেখা গেছে, সাঁতারের প্রথম পরিমাপযোগ্য ইতিবাচক প্রভাব সাধারণত দশ সপ্তাহের মধ্যেই বোঝা যায়। এতে শিশুদের মোটর স্কিল যেমন দৌড়ানো, লাফানো এবং হাত-পায়ের সমন্বয় ক্ষমতা উন্নত হয়। যদিও এগুলো সরাসরি সাঁতারের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়, তবে দৈনন্দিন জীবনে এর বড় প্রভাব পড়ে।
তিনি বলেন, সাঁতারে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিশুরা তুলনামূলকভাবে বেশি চটপটে হয়ে ওঠে এবং তাদের পেশিশক্তি, ভঙ্গি ও ভারসাম্য উন্নত হয়। সাঁতারের পরিবেশ অটিজম ও অন্যান্য বিকাশগত সমস্যায় ভোগা শিশুদের জন্য আনন্দের অনুভূতি তৈরি করে এবং তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে সহায়তা করে।
সিএ/এমআর


