মানবদেহের দুটি কিডনি প্রতিদিন নীরবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে। রক্ত পরিশোধন, বর্জ্য ও বিষাক্ত উপাদান বের করে দেওয়া, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ এবং হরমোন উৎপাদনের মতো কাজ কিডনির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু কিডনির কার্যক্ষমতা ধীরে ধীরে কমতে থাকলে শরীরে ক্ষতিকর উপাদান জমে যায়। এই অবস্থাকেই বলা হয় ক্রনিক কিডনি ডিজিজ, যাকে চিকিৎসকেরা ‘নীরব ঘাতক’ হিসেবে চিহ্নিত করেন। কারণ শুরুতে এই রোগের লক্ষণ অনেক সময় বোঝা যায় না।
চিকিৎসকদের মতে, কিডনির ফিল্টারিং ক্ষমতা কমে গেলে রক্তে বর্জ্য জমতে থাকে এবং শরীরের স্বাভাবিক ভারসাম্য নষ্ট হয়। এতে হরমোনের কার্যক্রম ব্যাহত হয়, রক্তচাপ অনিয়ন্ত্রিত হয়ে পড়ে এবং হাড় দুর্বল হতে শুরু করে। রোগ বাড়লে নানা ধরনের শারীরিক সমস্যা দেখা দেয়।
রোগের অগ্রগতিতে যেসব লক্ষণ দেখা যেতে পারে তার মধ্যে রয়েছে ঘন ঘন প্রস্রাব, অল্প কাজেই ক্লান্ত হয়ে পড়া, ক্ষুধামন্দা, হাত-পা বা চোখের পাতা ফোলা, প্রস্রাবে ফেনা দেখা যাওয়া, ত্বক শুষ্ক হয়ে যাওয়া, মনোযোগ কমে যাওয়া, ঘুমের সমস্যা, বমি ভাব, পেশিতে টান এবং রক্তচাপ হঠাৎ বেড়ে যাওয়া।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ক্রনিক কিডনি ডিজিজের প্রধান কারণ হলো ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ। এ ছাড়া গ্লোমেরুলোনেফ্রাইটিস, পলিসিস্টিক কিডনি ডিজিজ, প্রস্রাবের পথে বাধা, দীর্ঘদিন ব্যথানাশক ওষুধ সেবন এবং বারবার কিডনি সংক্রমণেও এই রোগ হতে পারে।
চিকিৎসা না নিলে এই রোগ থেকে রক্তস্বল্পতা, হৃদরোগ, হাড় দুর্বল হওয়া, স্নায়ুর ক্ষতি, শরীরে অতিরিক্ত পটাশিয়াম জমা এবং শ্বাসকষ্টের মতো জটিলতা দেখা দিতে পারে। যদিও এই রোগ পুরোপুরি সারানো সম্ভব নয়, তবে নিয়মিত চিকিৎসকের পরামর্শ, ডায়াবেটিস ও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ, কিডনি-বান্ধব খাদ্যাভ্যাস, ধূমপান পরিহার এবং নিয়মিত ব্যায়ামের মাধ্যমে কিডনির কার্যক্ষমতা দীর্ঘদিন ধরে বজায় রাখা সম্ভব।
সিএ/এমআর


