রাগ হলে দরজায় জোরে ধাক্কা দেওয়া বা লাথি মারা অনেকেরই অভ্যাস। বাস্তবে দেখা যায়, এমন কাজ করার পর কিছুটা সময়ের মধ্যেই রাগের তীব্রতা কমতে শুরু করে। মনোবিজ্ঞানের দৃষ্টিকোণ থেকে এই আচরণের পেছনে রয়েছে নির্দিষ্ট বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, রাগের সময় দরজায় আঘাত করা এক ধরনের আবেগের বহিঃপ্রকাশ। এই প্রক্রিয়াকে বিজ্ঞানের ভাষায় ডোরওয়ে ইফেক্ট বলা হয়। যখন একজন মানুষ এক ঘর থেকে অন্য ঘরে যায় বা দরজা অতিক্রম করে, তখন মস্তিষ্ক সাময়িকভাবে আগের ঘটনার স্মৃতি দুর্বল করে দেয়। এর ফলে রাগের তীব্রতা ধীরে ধীরে হালকা হয়ে আসে।
মনোবিজ্ঞানীরা বলেন, স্থান পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে মস্তিষ্ক নতুন পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নিতে চায়। এতে আগের ঘটনার আবেগগত চাপ কমে যায়। তাই দরজা বন্ধ করা বা অন্য ঘরে চলে যাওয়ার পর অনেকের রাগ কিছুটা প্রশমিত হয়।
২০০৬ সালে গ্যাব্রিয়েল এ রাডভেনেস্কি এ বিষয়ে প্রাথমিক গবেষণা করেন। প্রায় ৩০০ জনের ওপর চালানো পরীক্ষায় দেখা যায়, এক ঘর থেকে অন্য ঘরে যাওয়ার পর মানুষের আগের স্মৃতি কিছু সময়ের জন্য ঝাপসা হয়ে যায়। রাগ পুরোপুরি চলে না গেলেও স্থান পরিবর্তনের কারণে তার তীব্রতা কমে আসে।
বিশেষজ্ঞরা আরও জানান, দরজায় আঘাতের ফলে সৃষ্ট শব্দ মনের ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়ক হতে পারে। এতে সামান্য অপরাধবোধ তৈরি হয়, যা মানুষকে নিজের আচরণ নিয়ে ভাবতে সাহায্য করে। সাধারণত কিশোরদের মধ্যে রাগ করে দরজা লাগানোর প্রবণতা বেশি দেখা যায়।
মনোবিজ্ঞানীদের মতে, বিষণ্ণতা বা মানসিক চাপের সময় পরিবেশ পরিবর্তন উপকারী হতে পারে। সে কারণেই অনেক সময় মন খারাপ হলে হাঁটাহাঁটি বা বাইরে ঘোরার পরামর্শ দেওয়া হয়।
সিএ/এমআর


