আপনি কি প্রায়ই অন্যের সঙ্গে নিজেকে তুলনা করেন? বন্ধু, সহকর্মী বা অন্য কারও সঙ্গে নিজের মান মেলান? এমন প্রবণতা থাকলে আজকের দিনটি আপনার জন্যই। আজ আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা দিবস পালিত হচ্ছে। এই দিনে তুলনা বা প্রতিযোগিতার পরিবর্তে, নিজের প্রতি ভালোবাসা দেখানো এবং নিজের বিশেষ গুণাবলীকে গ্রহণ করার মাধ্যমে সুন্দর জীবন গড়ে তোলার প্রতি গুরুত্ব দেওয়া হয়। এবারের প্রতিপাদ্য, ‘তুমি যেমন আছ তেমনকেই ভালোবাসো এবং গ্রহণ করো। নিজেকে ভালোবাসো, নিজের অক্ষমতাকে নয়।’
নিজেকে গ্রহণ করার জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদ্ধতি
নিজের দক্ষতার প্রশংসা করুন
হয়তো আপনি দুর্দান্ত রান্না জানেন, চাইলেই জমিয়ে বিরিয়ানি, পেস্ট্রি বা অ্যাপল পাই তৈরি করতে পারেন। অথবা শ্রোতা হিসেবে আপনার দক্ষতা অসাধারণ। এই ইতিবাচক বিষয়গুলো নোট করুন। দ্বিধা করবেন না, আবার বাড়িয়ে লিখবেনও না। তালিকাটি জোরে জোরে পড়ে দেখুন এবং ভাবুন, কীভাবে এই গুণগুলোকে আরও বড় পরিসরে কাজে লাগানো যায়। এতে আত্মবিশ্বাসও বৃদ্ধি পাবে।
নিজের ভেতরের সমালোচককে উপেক্ষা করুন
নিজের খারাপ সমালোচক হওয়া বা নেতিবাচক চিন্তাভাবনা মনোযোগ দেওয়া সহজ, কিন্তু এটি এড়িয়ে চলাই বুদ্ধিমানের কাজ। যদি মনে আসে ‘আমি এটি ভালো করতে পারি না’, ‘এটি আমার জন্য নয়’—তাহলে নিজেকে বারবার বলুন, ‘আমি আমার ভালো বিষয়গুলোর ওপরই জোর দিয়ে কাজ করতে চাই।’
সীমারেখা নির্ধারণ করুন
নিজেকে গ্রহণ করলেও সবাই যে আপনাকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করবে, তা ভাবার কোনো কারণ নেই। সবাই আপনাকে ভালোভাবে নেবে না—এটিও মেনে নিতে হবে। পরিবার ও বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে নিজের চিন্তা, উদ্বেগ ও গল্প ভাগ করুন। যারা আপনাকে আপনার মতো করে গ্রহণ করে, তাদের সান্নিধ্যে থাকা আপনাকে আরও সহজে নিজের সত্যিকারের আত্মাকে ভালোবাসতে সাহায্য করবে।
প্রচেষ্টা সফল না হলে শোকাহত হওয়া স্বাভাবিক
নিজের স্বপ্ন, আকাঙ্ক্ষা বা প্রচেষ্টা সফল না হলে হতাশা অনুভব করা স্বাভাবিক। এতে লজ্জার কিছু নেই। এটাকে জীবনের চলমান ঘটনা হিসেবে গ্রহণ করুন। একবার হেরে যাওয়া মানেই পরাজিত হওয়া নয়। নিজেকে বলুন, ‘হেরে যাওয়া মানে আমি চেষ্টা করেছি। এটি আগামীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।’ এরপর নতুন অধ্যায়ের জন্য প্রস্তুতি নিন।
ভুলকে গ্রহণ করা মানে সবসময় আপনি ভুল হবেন না
নিজের ত্রুটি ও ব্যর্থতা গ্রহণ করা মানে সর্বনিম্ন অবস্থানের যোগ্য হওয়া নয়। নিজের সীমাবদ্ধতা জানা মানসিক সুস্থতার জন্য জরুরি। প্রত্যেকেরই সীমাবদ্ধতা থাকে। যেমন, আপনার বন্ধু ট্রেকিংয়ে ভালো, কিন্তু আপনার হাঁটুর সমস্যা রয়েছে। সেক্ষেত্রে ট্রেকিং না গিয়ে অন্য কিছু করা—যেমন বারান্দায় গল্পের বই পড়া—একইভাবে আনন্দদায়ক।
নিজেকে ক্ষমা করার চেষ্টা করুন
অতীতে কাউকে আঘাত করে থাকলে বা এমন আচরণ করেছেন যা নিয়ে লজ্জিত, তবে নিজেকে ক্ষমা করা জরুরি। এর অর্থ এই নয় যে আপনি বারবার একই আচরণ করবেন। এর মানে হলো, আপনি যা করেছেন তা গ্রহণ করেছেন, দায়িত্ব নিচ্ছেন এবং নিজেকে সঠিক পথে এগিয়ে নেওয়ার সংকল্প নিয়েছেন।
সিএ/এসএ


