হাঁটা শুধু শারীরিক স্বাস্থ্য রক্ষা করে না, মানসিক সুস্থতাও বজায় রাখে। টেক আ ওয়াক আউটডোরস ডে বা বাইরে হাঁটাহাঁটির দিন প্রতি বছর ২০ জানুয়ারি উদ্যাপিত হয়। যান্ত্রিক জীবনের ব্যস্ততা ও চার দেয়ালের বন্দিদশা থেকে মুক্তি পেতে, এক চিমটি সতেজতা ও সুস্থতা খুঁজে পাওয়ার জন্যই বিশেষ এই দিনটির আয়োজন করা হয়। আজকের দিনটি আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়, আমাদের শরীর শুধুই স্থবির হয়ে বসে থাকার জন্য নয়; বরং সচল ও সক্রিয় থাকার জন্য তৈরি।
ট্রেডমিল বা ঘরের ভেতরের ব্যায়ামের চেয়ে খোলা আকাশের নিচে হাঁটা অনেক বেশি কার্যকর। তাই দিনটি শুধু উদ্যাপনের নয়, বরং প্রতিদিনই কিছু সময় বের করে হাঁটার অভ্যাস গড়ে তোলা উচিত। অনেকেই জিম বা ঘরের ভিতরে হাঁটাকে পছন্দ করেন, তবে প্রকৃতির মাঝে হাঁটার সুবিধা অতুলনীয়।
বাইরে হাঁটার উপকারিতা
ভিটামিন ডি-এর উৎস: বাইরে হাঁটার সময় সূর্যের আলো শরীরকে সরাসরি ভিটামিন ডি দিতে পারে, যা হাড়ের গঠন ও পেশির বৃদ্ধির জন্য অপরিহার্য। বিশেষ করে ভোরের নরম রোদে হাঁটা অত্যন্ত কার্যকর।
মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য মহৌষধ: গবেষণা বলছে, ঘরের ভিতরের তুলনায় প্রকৃতির মাঝে হাঁটলে মানসিক চাপ, বিষণ্নতা ও দুশ্চিন্তা কমে। সবুজায়ন বা গ্রিন স্পেসে সময় কাটালে রক্তচাপ ও হৃৎস্পন্দন স্বাভাবিক থাকে, পাশাপাশি হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি হ্রাস পায়।
সহজ ও আনন্দদায়ক শরীরচর্চা: বাইরে হাঁটা অনেক সহজ ও আনন্দদায়ক মনে হয়। ফলে মানুষ দীর্ঘ সময় এবং নিয়মিত এটি চালিয়ে যেতে পারে।
কতটুকু হাঁটা প্রয়োজন
সুস্থ থাকতে একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটা উচিত। যদি একনাগাড়ে সময় না পান, দিনে দু’বার ১৫ মিনিট করে বা তিনবার ১০ মিনিট করে দ্রুত পায়ে হাঁটতে পারেন। হাঁটার সময় শ্বাসপ্রশ্বাস কিছুটা দ্রুত হওয়া উচিত, তবে কথা বলা সম্ভব হতে হবে। নিয়মিত হাঁটার মাধ্যমে ঘুম ভালো হয়, কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।
একটু হাঁটুন, সুস্থ থাকুন
আপনার এলাকা বা পার্কে হাঁটার অভ্যাস করুন। আমেরিকার ’১০ মিনিট ওয়াক’ ক্যাম্পেইন লক্ষ্য করেছে, প্রত্যেক ঘরের ১০ মিনিট দূরত্বের মধ্যে একটি মানসম্মত পার্ক থাকা উচিত। বন্ধু, পরিবার বা প্রতিবেশীকে সঙ্গে নিয়ে হাঁটতে গেলে সামাজিক যোগাযোগ বৃদ্ধি পায় এবং হাঁটার একঘেয়েমি দূর হয়। পোষা কুকুর থাকলে তাকে বেশি সময় নিয়ে বাইরে ঘুরান।
অফিসের ফাঁকে কিছু সময় বের করে হাঁটুন। কনফারেন্স কল চলাকালীন হেডফোন ব্যবহার করে কথা বলতে বলতে হাঁটুন। কফি খেতে রিকশা বা গাড়ি না নিয়ে হেঁটে যান। হাঁটার সময় একটি ব্যাগ সঙ্গে রাখুন এবং পথে প্লাস্টিক বা ময়লা দেখলে তা নির্দিষ্ট স্থানে ফেলে আসুন।
পানীয় সঙ্গে রাখুন
হাঁটার সময় হাইড্রেটেড থাকা জরুরি। প্রতি এক ঘণ্টা হাঁটার জন্য অন্তত দুই কাপ পানি বা ফলের রস পান করুন। বিশুদ্ধ পানি বেশি ভালো। চাইলে ডাবের পানি, চিনি ছাড়া আইস-টি বা ফল মিশ্রিত পানি নিতে পারেন। কার্বোনেটেড পানীয় এড়িয়ে চলা উচিত, যাতে পেটে অস্বস্তি না হয়।
হাঁটার সময় আশপাশের প্রকৃতি দেখুন, বুক ভরে তাজা বাতাস নিন এবং সুস্থতার পথে এক ধাপ এগিয়ে যান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হাঁটার মুহূর্তগুলো শেয়ার করাও একটি অনুপ্রেরণার উৎস হতে পারে।
সিএ/এসএ


