শীতের শুরু বা ঋতু পরিবর্তনের সময়ে সর্দি ও কাশি এখন প্রায় প্রতিটি ঘরের পরিচিত সমস্যা। শিশু থেকে বৃদ্ধ, সকলেই এর থেকে মুক্ত নয়। যদিও ওষুধ অনেক ক্ষেত্রে সহায়ক, কিন্তু ঘরোয়া যত্ন এবং সচেতনতা অনেক সময় দ্রুত আরাম এনে দিতে পারে।
কাছির জ্বালা কমাতে আদা-মধু এক কার্যকর উপায়। তাজা আদা বেটে বা কুচি করে তার রসের সঙ্গে এক চামচ খাঁটি মধু মিশিয়ে দিনে দুই থেকে তিনবার খেলে কাশির তীব্রতা কমে। আদার উষ্ণতা কফ ঢিলাতে সাহায্য করে, আর মধু গলা শান্ত রাখে।
লেবু ও কুসুম গরম পানিও সর্দি-কাশিতে আরাম দেয়। এক গ্লাস গরম কুসুম পানিতে অর্ধেক লেবুর রস ও সামান্য মধু মিশিয়ে সকালে পান করলে গলার খুসখুসে ভাব কমে। ভিটামিন ‘সি’ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করে।
রাতে ঘুমানোর আগে এক কাপ গরম দুধে আধা চা–চামচ হলুদ মিশিয়ে খেলে শরীর গরম থাকে এবং সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই সহজ হয়। কাশি বেশি থাকলে এটি বিশেষভাবে উপকারী।
গলার ব্যথা ও কাশিতে লবণ পানিতে গার্গল করা একটি সহজ ও কার্যকর পদ্ধতি। দিনে দুই থেকে তিনবার গার্গল করলে জীবাণু কমে এবং গলার ফোলাভাব হ্রাস পায়।
গরম পানির ভাপ নিলে নাকের বন্ধ ভাব কমে এবং সাইনাস পরিষ্কার হয়। প্রয়োজনে ইউক্যালিপটাস তেল এক–দুই ফোঁটা যোগ করা যেতে পারে। শিশুদের ক্ষেত্রে সতর্কতা নিতে হবে।
তুলসী ও লবঙ্গ ব্যবহারও কার্যকর। তুলসী পাতা ফুটিয়ে তার পানিতে লবঙ্গ ও আদা যোগ করে চা বানিয়ে পান করলে কাশি ও সর্দিতে আরাম পাওয়া যায়। এটি প্রাকৃতিক অ্যান্টিসেপটিক হিসেবেও কাজ করে।
পর্যাপ্ত বিশ্রাম ও বেশি তরল পানিও জরুরি। ঘুম ও পানি শরীরকে ভাইরাসের সঙ্গে লড়াইয়ে সহায়তা করে।
তবে কিছু ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। তিন দিনের বেশি জ্বর থাকলে, শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে, শিশু বা বৃদ্ধদের ক্ষেত্রে সমস্যা বাড়লে, অথবা দীর্ঘদিনের রোগী হলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।
সর্দি–কাশি সাধারণ সমস্যা হলেও অবহেলা করা উচিত নয়। সঠিক যত্ন, ঘরোয়া টোটকা এবং সচেতন ব্যবহার এই মৌসুমি অসুখ সহজেই নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারে।
সিএ/এমআর


